kazi chapal

আমার করোনা চিকিৎসা বৃত্তান্ত

কাজী চপলঃ-

আপনাদের ভালবাসায় ৪ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শাসকষ্টকে জয় করে বাসায় ফিরেছি। এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারিনি, চিকিৎসা চলছে। ডায়াবেটিস এবং ফুসফুসে ইনফেকশন থাকায় বোধ হয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলাম। একটু একটু করে শ্বাস নিয়ে করোনাকে পরাজিত করে বেঁচে আছি আর এর চিকিৎসার জন্য মুগদা সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাদারীত্ব ও মানবিকতার জন্য আমার অভিবাদন। কি চিকিৎসা আমাকে দেয়া হয়েছে মুগদায় তা আপনাদের জানাবার জন্য মুলত এ লেখা। করোনার কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নয় আমার অবস্থা ও লক্ষণ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসা চলেছে। বাসায় অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসার তোড়জোড় চলছিল, কিন্তু আমার বন্ধু মণি তার করোনার কঠিন অভিজ্ঞতা কথা বলে জোর করল হাসপাতালে যাবার জন্য। ৪ তারিখ রাতে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যান আমার সেজো ভাই, সঙ্গে শিলা। অনীক, সুস্মন, স্বনককেও দেখেছিলাম দুর থেকে ইমার্জেন্সি গেটে। বাল্যবন্ধু ডাঃ জাকিরের সাথে কথা বলে ভর্তি হয়ে গেলাম। কষ্টটা বাড়ছে, ছোট হয়ে আসছে ফুসফুস। ৪ বেডের বিশাল খোলামেলা একটা বড় ঘরের কোনার বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে দেয়া হল। অক্সিজেন পেয়ে মানসিক স্বস্থি বাড়ল। রাতে ৫টা ট্যাবলেট ক্যাপসুল খেতে দেয়া হল। মনটা শতভাগ সচল শুধু যুদ্ধ নিশ্বাস নেবার। সকালে ডাঃ এলেন, দেখলেন। বুকের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করালেন। হাতে ক্যানোলা পরান হল। নার্স এসে নাভীর গোড়ায় ক্লটিনেক্স ৪০ পুশ করলেন ফুসফুসে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য প্রতিদিন দুবেলা এটা নিতে হয়েছে আমাকে। হাতের ক্যানোলা দিয়ে সকাল সন্ধ্যা ধমনীতে দেয়া হল সেফটিকএ্যাকজেন, ডেক্সামেথাসন ও আরেকটি স্টেরয়েড। সেজে ভাই, রাজু, জাকির, মাহফুজ, জিয়া আর শিলা ছাড়া আর কারোর সাথে আমার কোন যোগাযোগ ছিল না, সম্ভবও ছিলনা। পরে অনেকের সাথে কথা হয়েছে। স্বজন ও বন্ধুরা খোজ নিয়েছেন, বাসায় শিশুদের দেখভাল করেছেন। কতকত নাম কারটা লিখব আর কারটাবা বাদ দেব। ১০ তারিখে আমার অবস্থার সামান্য পরিবর্তন দেখে বন্ধু ডাঃ জাকির তার সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নতুন আরেকটি এন্টিবায়োটিক মেরুপেনাম পুশ করার কথা জানাল। শিলাও ততদিনে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুগদায় ভর্তি হয়েছে। বন্ধু জাকির আমাদের দুজনের জন্য একটা কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিল। সেজে ভা এবার আমার কাশির জন্য যোগ হল ইনহেলার টিকামেট ও এ্যাজমাসল। লুজ মোশনের জন্য যোগ হল মেট্রোনিডাজল ও ওরস্যালাইন। এছাড়া প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় ছিল ইসোমিপ্রাজল, মোনাস, জিংক, ভিটামিন সি। কাশির জন্যে আবার যোগ হল ট্যাবলেট মোনার্চার ৬২৫, ট্যাবলেট কোর্টান ২০ এবং সিরাপ মোরাকফ (শুধুমাত্র এগুলো কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে)। ১৬ তারিখের পর থেকে একটু করে ভাল লাগা শুরু হল, অস্বস্তি কমে এল। কাশিটা ভোগাচ্ছে বেশ। ২১ তারিখে চিকিৎসক বাসায় যেতে বললেন, বুকের ইনফেকশনের দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা চলবে জানালেন। এগুলো এখন খাচ্ছি- cap oreef, tab rivaxa, tab don A, cap sergel, tab monas, tab fexo, tab xinc b, inhealer bexitrol, syr mirakof. আর খেতে বলা হয়েছে আদা, লবঙ্গের চা এবং মধু নিয়মিত।
অনেকে ভাবেন হাসপাতালে করোনার কোন চিকিৎসা হয় না। তবে চিকিৎসকগন প্রয়োজনীয় ঔষধ ইনজেকশন দিয়ে আপনার ফুসফুসকে সচল রাখতে চেষ্টা করে যান। পিপিই পরা চিকিৎসকদের দেখলে এমনিতে মায়া হয়, কেমনে যে থাকে সারাদিন!

মুগদায় দেখলাম অসংখ্য সিট খালি, তার মানে চিকিৎসার জন্য সকলে হাসপাতালে আসছেনা । কাশীতে কষ্ট পেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা বুকে ব্যাথা ও চাপ অনুভব করলে হাসপাতালে যাবেন। আমি যেমন মুগদা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওষুধ, ইন্জেকশন আর অফুরন্ত অক্সিজেন দিয়ে মুগদার এ চিকিৎসায় যাবতীয় ব্যায়ভার সরকারের। বেসরকারী হাসপাতালের ব্যাবসাকে সহায়তা না করে সরকারী হাসপতালের চিকিৎসকদের আন্তরিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠুন।
একটু চলাফেরাতে ক্লান্তি নামে আমার শরীরে। একটু কাশি একটু সামর্থ নিয়ে বাসায় আছি। আপনাদের ভালবাসার অঞ্জলি নিয়েই ভাল আছি। কৃতজ্ঞতা সকলের প্রতি। (একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা)

Check Also

ইশরাত শাহনাজ

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য অটুট রাখবেন যেভাবে

ইশরাত শাহনাজ বর্তমানে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাসটি বিশ্বের সব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *