ইশরাত শাহনাজ

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য অটুট রাখবেন যেভাবে

ইশরাত শাহনাজ

বর্তমানে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাসটি বিশ্বের সব দেশের মানুষকে আক্রান্ত করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি দুর্যোগময় করে তুলেছে। এমনকি প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনক হারে। এখন পর্যন্ত এই মহামারির প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাসী কবে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা আপাতত নেই। এমতাবস্থায় এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয় হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে এই দুশ্চিন্তা বা ভয় যেন আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে করতে হবে মনের চর্চা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় সকলেই আমরা গৃহবন্দি। কেঊ বাসা থেকেই অফিস করছি, পড়াশোনা করছি, বা ঘরের কাজ করছি। সব কিছুই করছি মানসিক চাপ নিয়ে। কারো জন্য এই চাপ বেশি মাত্রায় কাজ করছে, কারো জন্য কম মাত্রায় কাজ করছে। এই মানসিক চাপ সীমিত মাত্রায় রেখে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কাজে মনোনিবেশ করতে হবে, আর নিতে হবে মনের যত্ন।

এই কঠিন সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুন্ন রাখতে যা যা করা যেতে পারে-

১। প্রতিদিনের মৌলিক কাজগুলো যেমন: ঘুম, খাওয়া, বিশ্রামের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময় বের করে করা যেতে পারে ইয়োগা বা যোগাসন। অনেক যোগাসন আছে যা প্রতিদিন চর্চা করলে মন শান্ত করতে, শরীর ফুরফুরে করতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে।

২। যোগাসনের পাশাপাশি মাইন্ডফুলনেস বা মনোযোগিতার চর্চাও করতে পারেন যা আপনাকে বর্তমান সময়ের ব্যাপারে সচেতন ও সজাগ থাকতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে আপনি যে কাজটিই করবেন তাতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে এবং সেই বর্তমান মুহূর্তটিতে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণভাবে অনুভব করতে হবে।

৩। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে কমিয়ে বেশি বেশি ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। যেমন এখন আমি কী করবো, আমি তো আর বাঁচবো না বা এই করোনা আমার কিছুই করতে পারবে না- এসব চিন্তা বাদ দিয়ে কীভাবে করোনা প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো ঠিকমত মেনে চলে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবো এবং অন্যকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবো চিন্তা করতে হবে।

৪। যদি কখনো উত্তেজনা, উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করেন, তখন গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। পেটের উপর একটি হাত রেখে পেট ফুলিয়ে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে এবং মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে হবে যেন পেট থেকে সব বাতাস বের হয়ে যায়। এভাবে ৩-১০ বার করতে হবে। এটি আপনার মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন এর সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে যা আপনার উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিবে।

৫। স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যেতে হবে। তার সাথে পরিবারের সদস্যদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটাতে পারেন। নিজের পছন্দনীয় কাজগুলো যা পড়াশোনা বা অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপে করা হয়ে ওঠে না, সে কাজগুলো করতে পারেন। পেইন্টিংস, গল্পের বই পড়া, মুভি দেখা, সেলাই, সংগীতচর্চা, গাছের পরিচর্যা, খেলাধুলা, রান্না যে যা করতে পছন্দ করেন তাতে মনোনিবেশ করতে পারেন।

৬। সর্বপরি, সারাক্ষণ সোস্যাল মিডিয়ায় বা টেলিভিশনে করোনা সম্পর্কিত সংবাদ দেখা কমাতে হবে। আপনি যদি দিনের বেশিরভাগ সময় এতে ব্যয় করেন তবে আপনি উদ্বেগ কমাতে পারবেন না। তাই এগুলোতে ব্যস্ত না থেকে বা করোনা সম্পর্কিত সংবাদগুলো বেশি মাত্রায় না দেখে উপরে উল্লেখিত কাজগুলো করলে আশা করি আমাদের সকলের মানসিক স্বাস্থ্য অটুট থাকবে এবং এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমাদেরকে শক্তি যোগাবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Courtesy – rigingbd.com

Check Also

কাঁচকলার চিপস

ঘরে তৈরী কাঁচকলার চিপস

চিপস কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত, সেটা নিয়ে সব মায়েরাই চিন্তায় থাকে। বাসায় পুষ্টিকর উপকরণ দিয়ে খুব সহজে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *