গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা – তথ্যমন্ত্রী

দেশ-বিদেশের যেখান থেকেই হোক, দুর্যোগের সময় গুজব ছড়ালে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করলেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সংবাদ কক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর প্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। পরে এক তথ্য বিবরণীতে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, দেশে যখনই কোনও দুর্যোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখনই কিছু মানুষ গুজব ছড়ায়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। খুঁজে বের করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একটি মহল দুর্যোগের সময় সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আমাদের তথ্য অধিদফতর এই বিষয়গুলো নজরে রাখছে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দয়া করে কেউ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করবেন না।’

বিদেশ থেকেও অনেক ধরনের গুজব তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদেশে যেসব বাংলাদেশি নানা কারণে আছেন, তারা কিন্তু সবাই অত্যন্ত দেশপ্রেমিক। তবে তাদের মধ্যে দুই-একজনকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা হয়তো মনে করছে, বিদেশে আছে বিধায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু তারা বাংলাদেশের নাগরিক, সুতরাং যেখান থেকেই অপকর্ম করুক না কেন, সরকার আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং তা করবে।’

হাছান মাহমুদ দেশের সব গণমাধ্যমকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজকে যখন দেশের সব মানুষ ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে, সাংবাদিকরা এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের কাছে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সব সংবাদমাধ্যমের সম্মানিত কর্মকর্তা ও সাংবাদিক ভাই-বোনদের অনুরোধ জানাবো, আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণ যাতে সঠিক সংবাদ ও তথ্য পায়। সংবাদের কাটতির জন্য কেউ যেন জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না করেন।’

সরকারের বেতার, টেলিভিশন, তথ্য অধিদফতর এবং গণযোগাযোগ অধিদফতরগুলো জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য সরকারি এবং বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু আছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

আমরা আজকে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি গণযোগাযোগ অধিদফতর ও তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক বা মাঠপর্যায়ে যারা কর্মরত, এ দুর্যোগে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে তারা স্ব-স্ব অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সময় তথ্যসচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এসএম হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. মিজান উল আলমসহ তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর জরুরি সংস্থাগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

৩০ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *