Categories
সঙ্গীত

লকডাউনে খাবার দেবে উদীচী

জরুরি পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময়ে গৃহবন্দী খেটে খাওয়া মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেবেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। ইতমধ্যে সে রকম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার খেটে খাওয়া অসচ্ছল মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও নিজেদের প্রস্তুত করা হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করতে শুরু করেছেন তাঁরা।

করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষকে রক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ। গতকাল বিকেল পাঁচটায় প্রেসক্লাব ও পল্টন মোড়ের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু হয়। উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূর, মিজানুর রহমান সুমনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তাঁরা জানান, উদীচী কার্যালয়ে প্রতিদিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি চলবে এবং শ্রমিক অঞ্চলে বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

ইতমধ্যে করোনা প্রতিরোধে দেশজুড়ে উদীচীর জেলা ও শাখাগুলো নানা কার্যক্রম শুরু করেছে। সেসবের মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিতরণ, সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচারণা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। যে যাঁর অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরি করে, মানুষের পাশে থেকে এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে উদীচী।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুর। তাঁদের ভেতরে যেমন সচেতনতার অভাব আছে, তেমনি তাঁদের নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো জিনিস কেনার সামর্থ্য। করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হওয়ার পর থেকে তোপখানা রোডে নিজেদের কার্যালয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুর ও ভাসমান মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করে ভাইরাসটি সম্পর্কে তাঁদের সচেতনও করছেন উদীচীর সদস্যরা। উদীচীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যত দিন পথে থাকবেন এবং সরকার লকডাউন ঘোষণা না করবে, তত দিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ৫১ বছর ধরে এর শিল্পীরা হেঁটেছেন গ্রামেগঞ্জে, শহরে-বন্দরে, এমনকি দেশের বাইরে। সংকল্পে অবিচল থেকে গেয়েছেন গণমানুষের গান, অংশ নিয়েছেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে।

১৯৬৮ সালে পুরান ঢাকার নারিন্দায় সাইদুল ইসলামের বাসায় সত্যেন সেন, গোলাম মোহাম্মদ ইদুসহ কয়েকজন সমাজসচেতন দুরন্ত তরুণের কলমে লেখা হয়েছিল উদীচীর সূচনাপর্বের ইতিহাস। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর শান্তিবাগে রহিমা চৌধুরানীর বাড়িতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করে সংগঠনটি।

শুধু গণসংগীতেই সীমিত ছিল না উদীচীর ভ্রমণ। পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চস্থ করেছে নাটক। কখনো কখনো শত্রুর চোখরাঙানি, বুলেট, বোমা থামিয়ে দিতে চেয়েছে উদীচীর কর্মকাণ্ড। কিন্তু সত্যেন সেনের সঞ্জীবনী সংগীত ‘মানুষের কাছে পেয়েছি যে বাণী তাই দিয়ে রচিত গান মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাব মানুষের দেওয়া প্রাণ’ উদীচীর কর্মীদের নিরন্তর অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মীরা ছুটে গেছেন মানুষের কাছে। মানুষের মন জাগাতে, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *