Categories
কিংবদন্তি নিউজ

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডঃ জি সি দেব

গোবিন্দ চন্দ্র দেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনবিদ্যার একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি জি সি দেব নামেই সমধিক পরিচিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানি সৈন্যরা ক্ষণজন্মা মনীষী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড গোবিন্দ চন্দ্র দেবকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে হত্যা করেছিল।

জি সি দেব তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের পঞ্চখণ্ড পরগনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৭ সালে। তার পূর্বসূরিরা ছিলেন উচ্চগোত্রীয় ব্রাহ্মণ যারা গুজরাট থেকে সিলেট এসেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর জি সি দেব স্থানীয় মিশনারিদের তত্ত্বাবধানে বড় হন। জি সি দেব তার শৈশবেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ড. জি সি দেব কলকাতা রিপন কলেজের শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ড. দেবের পালিতা কন্যা রোকেয়া বেগম আর তার স্বামী তাঁর বাসায় থাকতেন।

২৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে রাতে সারারাত ধরেই তাঁর বাড়ির ওপর গুলিবর্ষিত হয়েছে। ভোরের দিকে দরজা ভেঙে পাকিস্তানি সেনারা ঘরে প্রবেশ করে। ‘কাঁহা মালাউন কাঁহা’ বলে তারা প্রফেসর দেবকে খোঁজ করে। পালিতা কন্যা রোকেয়া বেগমের স্বামী গোবিন্দ চন্দ্র দেবকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এবং সৈন্যদের মন গলানোর জন্য কলেমা পড়েন। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। ড. দেব নিজেও দুহাত উপরে তুলে ‘গুড সেন্স গুড সেন্স’ বলে তাদের নিবৃত্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু হাত কয়েক ব্যবধানে থেকে সেনাসদস্যরা ব্রাশফায়ার করে গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও রোকেয়া বেগমের স্বামীকে হত্যা করে। রোকেয়া বেগম আকস্মিক আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডে অচেতন হয়ে পড়ায় বেঁচে যান।

শহীদ দার্শনিক ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব ও তাঁর চিন্তাধারা অনেকটা একাডেমিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। অথচ তাঁর অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সমন্বয়ধর্মী বিশ্বজনীন চিন্তা সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য আজ অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর স্মৃতি ও চিন্তাধারা প্রসারের লক্ষে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছে। কিন্তু দেবের চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসারের উদ্যোগ জাতীয় ও আর্š—াজাতিক পর্যায়ে গ্রহণ করা হলে বিশ্ববাসি উপকৃত হবেন নিংসন্দেহে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *