Categories
সঙ্গীত

লকডাউনে খাবার দেবে উদীচী

জরুরি পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময়ে গৃহবন্দী খেটে খাওয়া মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেবেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। ইতমধ্যে সে রকম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার খেটে খাওয়া অসচ্ছল মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও নিজেদের প্রস্তুত করা হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করতে শুরু করেছেন তাঁরা।

করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষকে রক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ। গতকাল বিকেল পাঁচটায় প্রেসক্লাব ও পল্টন মোড়ের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু হয়। উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূর, মিজানুর রহমান সুমনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তাঁরা জানান, উদীচী কার্যালয়ে প্রতিদিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি চলবে এবং শ্রমিক অঞ্চলে বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

ইতমধ্যে করোনা প্রতিরোধে দেশজুড়ে উদীচীর জেলা ও শাখাগুলো নানা কার্যক্রম শুরু করেছে। সেসবের মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিতরণ, সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচারণা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। যে যাঁর অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরি করে, মানুষের পাশে থেকে এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে উদীচী।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুর। তাঁদের ভেতরে যেমন সচেতনতার অভাব আছে, তেমনি তাঁদের নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো জিনিস কেনার সামর্থ্য। করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হওয়ার পর থেকে তোপখানা রোডে নিজেদের কার্যালয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুর ও ভাসমান মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করে ভাইরাসটি সম্পর্কে তাঁদের সচেতনও করছেন উদীচীর সদস্যরা। উদীচীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যত দিন পথে থাকবেন এবং সরকার লকডাউন ঘোষণা না করবে, তত দিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ৫১ বছর ধরে এর শিল্পীরা হেঁটেছেন গ্রামেগঞ্জে, শহরে-বন্দরে, এমনকি দেশের বাইরে। সংকল্পে অবিচল থেকে গেয়েছেন গণমানুষের গান, অংশ নিয়েছেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে।

১৯৬৮ সালে পুরান ঢাকার নারিন্দায় সাইদুল ইসলামের বাসায় সত্যেন সেন, গোলাম মোহাম্মদ ইদুসহ কয়েকজন সমাজসচেতন দুরন্ত তরুণের কলমে লেখা হয়েছিল উদীচীর সূচনাপর্বের ইতিহাস। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর শান্তিবাগে রহিমা চৌধুরানীর বাড়িতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করে সংগঠনটি।

শুধু গণসংগীতেই সীমিত ছিল না উদীচীর ভ্রমণ। পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চস্থ করেছে নাটক। কখনো কখনো শত্রুর চোখরাঙানি, বুলেট, বোমা থামিয়ে দিতে চেয়েছে উদীচীর কর্মকাণ্ড। কিন্তু সত্যেন সেনের সঞ্জীবনী সংগীত ‘মানুষের কাছে পেয়েছি যে বাণী তাই দিয়ে রচিত গান মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাব মানুষের দেওয়া প্রাণ’ উদীচীর কর্মীদের নিরন্তর অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মীরা ছুটে গেছেন মানুষের কাছে। মানুষের মন জাগাতে, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে।

Categories
টিভি চ্যানেল নিউজ

সংসদ টিভিতে ২৮ মার্চ ডিজিটাল পাঠদান শুরু

করোনার ছুটিতে ঘরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২৮ মার্চ শনিবার থেকে ক্লাস সম্প্রচার করা হবে সংসদ টিভির মাধ্যমে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস হবে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৈঠকে অংশ নেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে সেরা শিক্ষকদের রেকর্ডিং করা ক্লাস প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়ে তারা এই কাজটির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও বিকল্প উপায়ে ক্লাস নেওয়ার আলোচনা চলছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। গত ১৬ মার্চের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ থাকার কথা ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত। করোনার বিস্তার ঘটায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সময় বাড়িয়েছে।
বন্ধের এই সময়ে শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় আছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী পৌনে দুই কোটির মতো আর মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী এক কোটির ওপরে। একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অন্যদিকে কোচিং বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর প্রভাব পড়ছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানান, সরকারের এ টু আই প্রকল্পের সঙ্গে মিলে এ কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষকদের ক্লাস রেকর্ডিং করে সংসদ টিভির মাধ্যমে এই ক্লাস প্রচার করা হবে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে এই ক্লাসগুলো প্রচার করা হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একেকটি বিষয়ের জন্য মোট ৩৫টি ক্লাস থাকবে।
মাউশির সূত্রে জানা গেছে, এসব ক্লাস রেকর্ডিং করা শুরু হয়েছে। তিনটি স্টুডিওতে এই ক্লাস রেকর্ডিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি স্টুডিও সরকারের শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর। এ ছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং মোবাইল ফোন অপারেটর রবির স্টুডিওতেও এসব ক্লাস রেকর্ডিং করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাইমারি স্কুলে বিকল্প উপায়ে কীভাবে ক্লাস বা পড়াশোনা চালু রাখা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করছেন। টিভির মাধ্যমে ক্লাস প্রচারের বিষয়টিও তাদের ভাবনায় আছে।
ছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য এসএমএস (খুদেবার্তা) পাঠাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গতকাল অধিদপ্তরকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।
গতকাল মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নানা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। সমকালকে তিনি বলেন, ‘দেশের এক কোটি ৩৭ লাখ শিক্ষার্থীর মায়েদের মোবাইলে একটি ইউনিক এসএমএস পাঠানো হবে। এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয়েছে, যা পড়ানোর কথা ছিল, বন্ধের মধ্যে মায়েদের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীদের সেই পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বলা হবে। এই এসএমএসটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিব জানান, নিয়মিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা মোবাইলে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মনিটর করবেন।

Categories
নিউজ

জাতীয় গণহত্যা দিবস

আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য ছিল, বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। এভাবে রাতের আঁধারে ঘুমন্ত মানুষের ওপরঅত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কোনও বাহিনীর আক্রমণের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারসব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৫ মার্চকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য ২০১৭ সালের ১১ মার্চ সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ওই বছর থেকে দিনটি জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে তার বাণীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি বর্বরতম ও মর্মান্তিক ঘটনা।

২৫ মার্চেরশহীদদের স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দিনকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত দেশ ও জাতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। গণহত্যা দিবস বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশ লক্ষ বাঙালির আত্মত্যাগের মহান স্বীকৃতির পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদের প্রতীক।

তিনি বলেন, নানা ষড়যন্ত্র করেও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে প্রতিহত করতে না পেরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতেই ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদারেরা এ দেশের গণমানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। একাত্তরের বীভৎস গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব মানবতার ইতিহাসেও একটি কালো অধ্যায়। এমন গণহত্যা আর কোথাও যাতে না ঘটে, গণহত্যা দিবস পালনের মাধ্যমে সে দাবিই বিশ্বব্যাপী প্রতিফলিত হবে।

সব বাধা পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নতি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন সমৃদ্ধির ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা একাত্তরের গণহত্যায় জীবনদানকারী প্রতিটি প্রাণের প্রতি জানাতে পারি আমাদের চিরন্তন শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তিনি বলেন, এবছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশে সংঘটিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নিষ্ঠুরতম গণহত্যাগুলোর একটি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদে এ দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং ২০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

প্রধানমন্ত্রীবলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ প্রণয়ন করেছিলেন। সেই আইনের আওতায় অনেকের বিচার শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধপরাধীদের বিচার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের মুক্তি দেয়। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়াও গণহত্যার দোসর নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছে। বেশকিছু বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ব্যাপারে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন প্রকৃতার্থে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধার স্মারক এবং সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণহত্যা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে ২৫ মার্চ কালরাতে নিহত সবশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করেছে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগ সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিহাসের সত্যকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিশ্বসভ্যতার এক সংকটময় মুহূর্তে আমাদের জাতীয় জীবনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সমাগত। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে বাতিল করা হয়েছে। দেশবাসীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে আওয়ামী লীগও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করেছে। শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ভয়াবহ এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনই পারে ভয়াবহ এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ তথা বিশ্বমানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ধৈর্য্য, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। এরপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো দূরভিসন্ধি করে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। বাঙালি তখন বুঝতে পেরেছিল, স্বাধীনতা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। পাকিস্তানিদের নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ স্বাধীনতার নির্দেশনা দেন। এরমধ্যেই বাঙালিদের ওপর সামরিক হামলার নীলনকশা চূড়ান্ত করে পাকিস্তানি বাহিনী। ২৫ মার্চের কালরাতে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা। রাতের নির্মম হত্যাযজ্ঞের পরদিন ২৬ মার্চ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলে আপামর জনতা।