Categories
জীবনযাপন মতামত

আমার করোনা চিকিৎসা বৃত্তান্ত

কাজী চপলঃ-

আপনাদের ভালবাসায় ৪ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শাসকষ্টকে জয় করে বাসায় ফিরেছি। এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারিনি, চিকিৎসা চলছে। ডায়াবেটিস এবং ফুসফুসে ইনফেকশন থাকায় বোধ হয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলাম। একটু একটু করে শ্বাস নিয়ে করোনাকে পরাজিত করে বেঁচে আছি আর এর চিকিৎসার জন্য মুগদা সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাদারীত্ব ও মানবিকতার জন্য আমার অভিবাদন। কি চিকিৎসা আমাকে দেয়া হয়েছে মুগদায় তা আপনাদের জানাবার জন্য মুলত এ লেখা। করোনার কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নয় আমার অবস্থা ও লক্ষণ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসা চলেছে। বাসায় অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসার তোড়জোড় চলছিল, কিন্তু আমার বন্ধু মণি তার করোনার কঠিন অভিজ্ঞতা কথা বলে জোর করল হাসপাতালে যাবার জন্য। ৪ তারিখ রাতে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যান আমার সেজো ভাই, সঙ্গে শিলা। অনীক, সুস্মন, স্বনককেও দেখেছিলাম দুর থেকে ইমার্জেন্সি গেটে। বাল্যবন্ধু ডাঃ জাকিরের সাথে কথা বলে ভর্তি হয়ে গেলাম। কষ্টটা বাড়ছে, ছোট হয়ে আসছে ফুসফুস। ৪ বেডের বিশাল খোলামেলা একটা বড় ঘরের কোনার বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে দেয়া হল। অক্সিজেন পেয়ে মানসিক স্বস্থি বাড়ল। রাতে ৫টা ট্যাবলেট ক্যাপসুল খেতে দেয়া হল। মনটা শতভাগ সচল শুধু যুদ্ধ নিশ্বাস নেবার। সকালে ডাঃ এলেন, দেখলেন। বুকের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করালেন। হাতে ক্যানোলা পরান হল। নার্স এসে নাভীর গোড়ায় ক্লটিনেক্স ৪০ পুশ করলেন ফুসফুসে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য প্রতিদিন দুবেলা এটা নিতে হয়েছে আমাকে। হাতের ক্যানোলা দিয়ে সকাল সন্ধ্যা ধমনীতে দেয়া হল সেফটিকএ্যাকজেন, ডেক্সামেথাসন ও আরেকটি স্টেরয়েড। সেজে ভাই, রাজু, জাকির, মাহফুজ, জিয়া আর শিলা ছাড়া আর কারোর সাথে আমার কোন যোগাযোগ ছিল না, সম্ভবও ছিলনা। পরে অনেকের সাথে কথা হয়েছে। স্বজন ও বন্ধুরা খোজ নিয়েছেন, বাসায় শিশুদের দেখভাল করেছেন। কতকত নাম কারটা লিখব আর কারটাবা বাদ দেব। ১০ তারিখে আমার অবস্থার সামান্য পরিবর্তন দেখে বন্ধু ডাঃ জাকির তার সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নতুন আরেকটি এন্টিবায়োটিক মেরুপেনাম পুশ করার কথা জানাল। শিলাও ততদিনে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুগদায় ভর্তি হয়েছে। বন্ধু জাকির আমাদের দুজনের জন্য একটা কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিল। সেজে ভা এবার আমার কাশির জন্য যোগ হল ইনহেলার টিকামেট ও এ্যাজমাসল। লুজ মোশনের জন্য যোগ হল মেট্রোনিডাজল ও ওরস্যালাইন। এছাড়া প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় ছিল ইসোমিপ্রাজল, মোনাস, জিংক, ভিটামিন সি। কাশির জন্যে আবার যোগ হল ট্যাবলেট মোনার্চার ৬২৫, ট্যাবলেট কোর্টান ২০ এবং সিরাপ মোরাকফ (শুধুমাত্র এগুলো কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে)। ১৬ তারিখের পর থেকে একটু করে ভাল লাগা শুরু হল, অস্বস্তি কমে এল। কাশিটা ভোগাচ্ছে বেশ। ২১ তারিখে চিকিৎসক বাসায় যেতে বললেন, বুকের ইনফেকশনের দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা চলবে জানালেন। এগুলো এখন খাচ্ছি- cap oreef, tab rivaxa, tab don A, cap sergel, tab monas, tab fexo, tab xinc b, inhealer bexitrol, syr mirakof. আর খেতে বলা হয়েছে আদা, লবঙ্গের চা এবং মধু নিয়মিত।
অনেকে ভাবেন হাসপাতালে করোনার কোন চিকিৎসা হয় না। তবে চিকিৎসকগন প্রয়োজনীয় ঔষধ ইনজেকশন দিয়ে আপনার ফুসফুসকে সচল রাখতে চেষ্টা করে যান। পিপিই পরা চিকিৎসকদের দেখলে এমনিতে মায়া হয়, কেমনে যে থাকে সারাদিন!

মুগদায় দেখলাম অসংখ্য সিট খালি, তার মানে চিকিৎসার জন্য সকলে হাসপাতালে আসছেনা । কাশীতে কষ্ট পেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা বুকে ব্যাথা ও চাপ অনুভব করলে হাসপাতালে যাবেন। আমি যেমন মুগদা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওষুধ, ইন্জেকশন আর অফুরন্ত অক্সিজেন দিয়ে মুগদার এ চিকিৎসায় যাবতীয় ব্যায়ভার সরকারের। বেসরকারী হাসপাতালের ব্যাবসাকে সহায়তা না করে সরকারী হাসপতালের চিকিৎসকদের আন্তরিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠুন।
একটু চলাফেরাতে ক্লান্তি নামে আমার শরীরে। একটু কাশি একটু সামর্থ নিয়ে বাসায় আছি। আপনাদের ভালবাসার অঞ্জলি নিয়েই ভাল আছি। কৃতজ্ঞতা সকলের প্রতি। (একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা)

Categories
জীবনযাপন

চোখের বিশ্রাম নিন

করোনাকালে বাসায় বসে কখনও অফিসের কাজ, রাত জেগে সিনেমা বা সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ, মোবাইলে চোখ রেখে চলে যাচ্ছে আমাদের সময়। চোখের উপর চাপটাও একটু বেশি পড়ছে। চোখকে বিশ্রাম দিন।

একটানা মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা থেকে চোখকে রক্ষা করতে মাঝে মাঝে দ্রুত চোখের পলক ফেলুন।

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে চোখকে একটু বিশ্রাম দিন। আধা ঘণ্টা পর পর এক মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করে রাখুন। অথবা দূরে সবুজের দিকে তাকিয়ে রাখুন।

কাত হয়ে বা শুয়ে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। এতেও চোখের উপর বাড়তি চাপ পড়বে।

যারা কনট্যাক্ট লেন্স পরেন, তারা একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি লেন্স পরে থাকবেন না।

অতিরিক্ত আলোতে কখনও কাজ করবেন না।

অন্ধকার বা খুব সামান্য আলোয় মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করবেন না।

চোখের পরিচর্যায় যা করবেন!

১. চোখের অশ্রুনালির কাছে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করলে চোখের আর্দ্রতা বাড়ে এবং চোখের প্রশান্তি দেয়। চোখের পাতার ওপর মৃদুভাবে তিন আঙুল দিয়ে চক্রাকারে ম্যাসাজ করতে পারেন। ১০ বার ঘড়ির কাঁটার দিকে ও ১০ বার বিপরীত দিকে এ ম্যাসাজ করুন। চোখের দুই পাতার মাঝখানে তিনবার ম্যাসাজ করতে পারেন।

২. যারা কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেন তাদের চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। তাদের জন্য ব্যায়াম হচ্ছে একটানা না তাকিয়ে থেকে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা। কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় সাধারণের তুলনায় ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন। এতে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

৩. দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে কিছুক্ষণ পর পর টানা দুই মিনিট চোখ পিটপিট করুন। এই ব্যায়াম আপনার চোখের রক্তসরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে। কিছুক্ষণ পর পরই এই ব্যায়াম করলে সুফল পাবেন।

৪. মাথাটা স্থির রেখে চোখ দুটো বন্ধ করুন। এবার ধীরে ধীরে চোখের মণি দুটো একবার ওপরে ও একবার নিচে করুন। এভাবে করুন ১০ বার। চোখের আরামের জন্যে উপকার পাবেন।

৫. কাজের ফাঁকে খানিকটা সময় চোখ বন্ধ করে রাখুন। হাতে হাত ঘষে হাতের তালু কিছুটা গরম করে নিয়ে বন্ধ চোখের ওপর রাখুন। হাতের তালু এমনভাবে রাখবেন যাতে ভেতরে কোনো আলো না যেতে পারে। ২ মিনিট এভাবে চোখ বন্ধ রাখুন। দিনে বেশ কয়েকবার এভাবে করুন। এতে চোখের রক্ত সরবরাহ বাড়বে এবং চোখের পেশি সক্রিয় থাকবে।

Categories
জীবনযাপন

লেবু কেন খাবেন?

লেবুর গুণাগুণ কি আমরা জানি? লেবু শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ত্বক পরিষ্কারক, কিডনি পাথর, ওজন কমানোসহ বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার সমাধান করে থাকে।

লেবু কেন খাবেন?

লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ফাইবার এবং এন্টিব্যাকটেরিয়া ও এন্টিভাইরাল উপাদান। ফলে মৌসুমি নানা সংক্রামক রোগে, যেমন ঠান্ডা, কাশি, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে লড়তে পারে লেবু। আসুন জেনে নিই লেবু কেন খাব আমরা

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ

ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লেবুর রস। তাই নিয়মিত ভাতের সঙ্গে লেবু খেতে পারেন। এত করে কাওয়ার রুচি বাড়বে।

ক্ষত সারাতে

লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। হাড়, তরুনাস্থি ও টিস্যুর স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

লেবুর মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি সর্দি-কাশির সমস্যা দূর করে। স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। ফুসফুস পরিষ্কার করে হাঁপানি সমস্যার উপশম করে।

ওজন কমাতে

লেবুতে থাকা পেকটিন ফাইবার খিদে কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খালি পেটে লেবুর রস খান, তাদের ওজন দ্রুত হ্রাস পায়। সুতরাং ওজন বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা না করে প্রতিদিন সকালে লেবুর রস খান।

হজমে সাহায্য করে

লেবুর রস শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। বদহজম, বুক জ্বালার সমস্যাও সমাধান করে লেবু পানি। সেইসঙ্গে পরিপাক নালী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।

ত্বক পরিষ্কারক

লেবুতে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক এসিড রয়েছে। এই রস শুধু ত্বকের তেলতেলে ভাবই দূর করে না, সেই সঙ্গে ত্বককে উজ্জ্বল করে দেয়। তাছাড়া লেবুর রস বয়সের বলিরেখা দূর করতে দারুণ কার্যকর।

কিডনি পাথর

লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ নামক পাথর গঠনে বাধা দেয়। সাধারণ কিডনি পাথরগুলোর মধ্যে এটি একটি।

লিভার পরিষ্কার

লেবুতে বিদ্যমান সাইট্রিক অ্যাসিড কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।

মূত্রনালীর সংক্রমণ দূর করে

যদি মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটে। তাহলে প্রচুর পরিমাণে লেবুর রস পান করুন। এটি আরোগ্য লাভে সাহায্য করবে।

ক্যানসার প্রতিরোধ

লেবু অনেক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে এর জুড়ি মেলা ভার।

Categories
জীবনযাপন লাইফ স্টাইল

ঘরে তৈরী কাঁচকলার চিপস

চিপস কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত, সেটা নিয়ে সব মায়েরাই চিন্তায় থাকে। বাসায় পুষ্টিকর উপকরণ দিয়ে খুব সহজে কিন্তু মুচমুচে চিপস বানিয়ে নেওয়া যায়। কাঁচকলা এমন একটি সবজি, যা সহজলভ্য এবং শরীরের জন্য অনেক বেশী উপকারি। মুচমুচে কাঁচকলার চিপস খেতে বেশ ভালোই লাগে! পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের দিকটাও তো চিন্তা করতে হবে, তাই না? বিকালের নাশতায় কী ধরনের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস তৈরি করা যায়, এটা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। অল্প সময়ে ঝামেলাবিহীন উপায়ে বানিয়ে নেওয়া যায় কাঁচকলার চিপস, বানানোর রেসিপিটি জেনে নিন!

কাঁচকলার চিপস তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ

  • কাঁচকলা- ২টি
  • লবণ- স্বাদ অনুযায়ী
  • হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
  • লালমরিচের গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
  • বেসন- ১/২ কাপ
  • কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ চা চামচ
  • জিরা গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
  • গোলমরিচের গুঁড়া- সামান্য
  • তেল– ভাজার জন্য

প্রস্তুত প্রণালী

১) প্রথমে কাঁচকলাগুলো পাতলা পাতলা স্লাইসে গোল করে কেটে নিন। কাটার সাথে সাথে লবণ ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। এভাবে মাখিয়ে না রাখলে খুব দ্রুতই কাঁচকলা কালো হয়ে যায়!

২) এবার একটি পাত্রে হলুদ গুঁড়া, লালমরিচের গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও কর্ন ফ্লাওয়ার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

৩) সামান্য একটু পানি দিয়ে বেসন গুলিয়ে নিন এবং এটি ঐ মসলার মিশ্রণে ঢেলে দিন। সামান্য লবণ দিয়ে সব উপকরণগুলো মিক্স করে ফেলুন।

৪) তারপর গোল গোল করে কেটে রাখা কাঁচকলাগুলো এই মিশ্রণে দিয়ে দিন এবং ভালোভাবে কোটিং করে নিন। অর্থাৎ কাঁচকলার সাথে মসলাগুলো যেন ভালো করে লেগে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৫) প্যানে তেল গরম করতে দিন। (ডুবো তেলে মুচমুচে করে ভেজে নিতে হবে। তেলে না ভেজে ওভেনেও বেক করে নিতে পারেন)

৬) গরম তেলে একে একে কাঁচকলার চিপসগুলো দিয়ে দিন এবং বাদামি রং না আসা পর্যন্ত ভাজতে থাকুন।

৭) ভাজা হয়ে গেলে চিপসগুলো কিচেন টিস্যুতে তুলে রাখুন যাতে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। এবার উপর থেকে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিন।

হয়ে গেলো কাঁচকলার চিপস ! রেসিপিটা খুব সহজ, বিকেলে চায়ের আড্ডাতে কিংবা শিশুদের নাস্তায় এই খাবারটি রাখতে পারেন। ছোটবড় সকলেই কিন্তু বেশ মজা করেই খাবে! হাতের কাছে উপকরণগুলো থাকলে আজই বানিয়ে নিন কাঁচকলার চিপস।

Categories
জীবনযাপন নিবন্ধ লাইফ স্টাইল

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য অটুট রাখবেন যেভাবে

ইশরাত শাহনাজ

বর্তমানে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাসটি বিশ্বের সব দেশের মানুষকে আক্রান্ত করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি দুর্যোগময় করে তুলেছে। এমনকি প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনক হারে। এখন পর্যন্ত এই মহামারির প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাসী কবে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা আপাতত নেই। এমতাবস্থায় এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয় হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে এই দুশ্চিন্তা বা ভয় যেন আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে করতে হবে মনের চর্চা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় সকলেই আমরা গৃহবন্দি। কেঊ বাসা থেকেই অফিস করছি, পড়াশোনা করছি, বা ঘরের কাজ করছি। সব কিছুই করছি মানসিক চাপ নিয়ে। কারো জন্য এই চাপ বেশি মাত্রায় কাজ করছে, কারো জন্য কম মাত্রায় কাজ করছে। এই মানসিক চাপ সীমিত মাত্রায় রেখে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কাজে মনোনিবেশ করতে হবে, আর নিতে হবে মনের যত্ন।

এই কঠিন সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুন্ন রাখতে যা যা করা যেতে পারে-

১। প্রতিদিনের মৌলিক কাজগুলো যেমন: ঘুম, খাওয়া, বিশ্রামের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময় বের করে করা যেতে পারে ইয়োগা বা যোগাসন। অনেক যোগাসন আছে যা প্রতিদিন চর্চা করলে মন শান্ত করতে, শরীর ফুরফুরে করতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে।

২। যোগাসনের পাশাপাশি মাইন্ডফুলনেস বা মনোযোগিতার চর্চাও করতে পারেন যা আপনাকে বর্তমান সময়ের ব্যাপারে সচেতন ও সজাগ থাকতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে আপনি যে কাজটিই করবেন তাতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে এবং সেই বর্তমান মুহূর্তটিতে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণভাবে অনুভব করতে হবে।

৩। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে কমিয়ে বেশি বেশি ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। যেমন এখন আমি কী করবো, আমি তো আর বাঁচবো না বা এই করোনা আমার কিছুই করতে পারবে না- এসব চিন্তা বাদ দিয়ে কীভাবে করোনা প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো ঠিকমত মেনে চলে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবো এবং অন্যকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবো চিন্তা করতে হবে।

৪। যদি কখনো উত্তেজনা, উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করেন, তখন গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। পেটের উপর একটি হাত রেখে পেট ফুলিয়ে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে এবং মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে হবে যেন পেট থেকে সব বাতাস বের হয়ে যায়। এভাবে ৩-১০ বার করতে হবে। এটি আপনার মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন এর সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে যা আপনার উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিবে।

৫। স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যেতে হবে। তার সাথে পরিবারের সদস্যদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটাতে পারেন। নিজের পছন্দনীয় কাজগুলো যা পড়াশোনা বা অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপে করা হয়ে ওঠে না, সে কাজগুলো করতে পারেন। পেইন্টিংস, গল্পের বই পড়া, মুভি দেখা, সেলাই, সংগীতচর্চা, গাছের পরিচর্যা, খেলাধুলা, রান্না যে যা করতে পছন্দ করেন তাতে মনোনিবেশ করতে পারেন।

৬। সর্বপরি, সারাক্ষণ সোস্যাল মিডিয়ায় বা টেলিভিশনে করোনা সম্পর্কিত সংবাদ দেখা কমাতে হবে। আপনি যদি দিনের বেশিরভাগ সময় এতে ব্যয় করেন তবে আপনি উদ্বেগ কমাতে পারবেন না। তাই এগুলোতে ব্যস্ত না থেকে বা করোনা সম্পর্কিত সংবাদগুলো বেশি মাত্রায় না দেখে উপরে উল্লেখিত কাজগুলো করলে আশা করি আমাদের সকলের মানসিক স্বাস্থ্য অটুট থাকবে এবং এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমাদেরকে শক্তি যোগাবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Courtesy – rigingbd.com

Categories
জীবনযাপন

চাইনিজ চিকেন উইংস রান্নার প্রণালী

চাইনিজ চিকেন উইংস একটি সহজ রান্নার উপাদেয় খাবার। যারা একটু ভিন্ন খাবার বানাবর চেষ্টা করতে চান তাদের জন্য এ খাবার রান্নার সহজ প্রনারী দেয়া হল

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • চিকেন উইংস হাফ কেজি
  • সয়া সস ৩ টেবিল চামচ
  • ফিস সস ১ চা চামুচ
  • ওয়েস্টার সস ৩ টেবিল চামচ
  • ভিনেগার ১ চা চামচ
  • আদা লম্বা করে কুচি ১ টেবিল চামচ
  • লাল সবুজ লম্বা করে কাপ্সিকাম কাটা ১ কাপ
  • তেল ৩ টেবিল চামচ
  • লবণ স্বাদমত
  • তিল অল্প

প্রস্তুত প্রণালী:

  • একটা বাটিতে সয়া সস, ফিস সস, ওয়েস্টার সস, ভিনেগার আর আদা কুচি একত্রে মিশিয়ে রাখুন।
  • এখন প্যানে তেল দিয়ে তাতে উইংস দিয়ে দিন। লাল লাল করে ভেজে নিন আর রান্না করুন ১৫ মিনিট।
  • এখন ওই সসের মিশ্রন গুলি উইংস দিয়ে সাথে লবণ স্বাদমত দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। রান্না করুন আরো ৫ মিনিট।
  • যখন একটু লাল হয়ে আসবে এই সময় কাপ্সিকাপ দিয়ে দিন ৫ মিনিট রান্না করুন। নামিয়ে উপরে তিল ছিটিয়ে দিন।
  • ভাতের সাথে কিংবা ফ্রাইড রাইসের সাথে দারুন লাগে চায়নিজ স্টাইল উইংস ।
Categories
জীবনযাপন শিল্পকলা সঙ্গীত

করোনা নিয়ে আসিফের গান

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নতুন গান গেয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আসিফ আকবর

মুহিনের সুরে তিনি গাইলেন সচেতনতামূলক গান ‌‘আসবে বিজয়’। সুরের পাশাপাশি গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সুরকার নিজেও। সহশিল্পী হিসেবে আরও আছেন হৈমন্তী, রাজীব ও নদী। গানটি লিখেছেন জামাল হোসেন। যা আজ-কালের মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে রঙ্গন মিউজিক এর ইউটিউব চ্যানেলে।

রেকর্ডিংয়ের ফাঁকে মুহিনের সেলফিতে আসিফ


গানটি প্রসঙ্গে সুরকার-শিল্পী মুহিন গণ মাধ্যমে বলেন, ‌‌‌‘করোনাভাইরাসের দাপটে গোটা-বিশ্ব থমকে গেছে। সচেতনতাই পারে এই মহামারি থেকে রক্ষা করতে। সেই তাগিদ থেকেই জামাল হোসেন ভাইয়ের উৎসাহে গানটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ, সাধারণ মানুষদের সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া খুব দরকার। আসিফ ভাইসহ আমার অন্য কলিগরা গানটিতে অংশ নিয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

https://www.facebook.com/muhin.khan.52/videos/10222357203897588/
Categories
জীবনযাপন নিউজ

করোনায় ঢাকার রাস্তা ফাকা

জ্যামের নগর ঢাকার রাস্তা আজ অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা। সকাল ১০টার আগে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এর পরই আটকে দেয়া হয় গণপরিবহন। মিরপুর পল্লবী থেকে বা সায়েদাবাদ থেকে গাড়ি ছাড়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিক কর্মদিবসে অন্যান্য দিন যখন রাস্তা থাকে গাড়িতে ঠাসা, সেখানে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার রাস্তা ফাঁকা।

Categories
জীবনযাপন নিউজ

অন্য রকম স্বাধীনতা দিবস

২৬শে মার্চ বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন, বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। বাঙালি জাতির গৌরবদীপ্ত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী দেশের বীর সন্তানদের। নৃশংস গণহত্যার শিকার লাখো সাধারণ মানুষ এবং সম্ভ্রম হারানো মা-বোনের প্রতি জানাবে মনের গহিনের আকুণ্ঠ শ্রদ্ধা।

তবে স্বাধীনতা-পরবর্তীতে এবারই প্রথম এ দিবসটি উপলক্ষে দেশের কোথাও কোনো আয়োজন থাকছে না। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে। এমনকি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

২৬ মার্চ দিনটি জাতির জীবনে একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার। স্বাধিকারের দাবিতে জেগে ওঠা নিরীহ বাঙালির প্রতি ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি

হানাদার সেনারা যে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল, সেই মৃতু্যর বিভীষিকা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল

দেশের মুক্তিপাগল বীর সন্তানরা। ২৫ মার্চের গভীর রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রশিক্ষণহীন নিরস্ত্র বাঙালি যেভাবে একটি সুশৃঙ্খল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে তেমন সংগ্রামের দৃষ্টান্ত বিরল।

হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙিয়ে, আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে একাত্তরের এই দিন যে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের মানুষ, দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহঙ্কারের দিন আজ।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চ কালোরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

মধ্যরাতেই অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন। ইংরেজিতে ঘোষণা করা সেই স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ হলো, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি বাংলায় যে বার্তা পাঠান সেটি হলো- ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। সর্বশক্তিমান আলস্নাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোনো আপস নেই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রম্ন বিতাড়িত করুন। সব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আলস্নাহ আমাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’

চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বাণী সেই রাতেই সাইক্লোস্টাইল করে শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বিবৃতিটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান। এরপর ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যে ঘোষণা পাঠ করা হয় সেখানে উলেস্নখ ছিল বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার কপি ইংরেজি ও বাংলায় ছাপিয়ে হ্যান্ডবিল আকারে চট্টগ্রামে বিলি করা হয়। এই ঘোষণা টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার ও তৎকালীন ইপিআর’র ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘোষণা প্রচারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতেই ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়

Categories
জীবনযাপন নিউজ সাহিত্য

করোনাভাইরাস – কী করা যাবে আর কী নয়

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিজেকে আর নিজের পরিবার, স্বজনদের রক্ষা করতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার আপনার ভুমিকা কী হবে এ সময়? কীভাবে আপনি পারবেন এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কিছু উপদেশ দিচ্ছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক।

১. বারবার হাত ধোয়া
নিয়মিত এবং ভালো করে বারবার হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবৎ)। কেন? এ কথা প্রমাণিত যে সাবান–পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুলে এই ভাইরাসটি হাত থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতে ময়লা বা নোংরা দেখা না গেলেও বারবার হাত ধুতে পারেন। তবে বিশেষ করে হাত ধোবেন অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যার পর, হাঁচি–কাশি দেওয়ার পর, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর, পশুপাখির পরিচর্যার পর।

২. দূরে থাকা
এই সময় যেকোনো সর্দি–কাশি, জ্বর বা অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত এক মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কেন? আর সব ফ্লুর মতোই এই রোগও কাশির ক্ষুদ্র ড্রপলেট বা কণার মাধ্যমে অন্যকে সংক্রমিত করে। তাই যিনি কাশছেন, তাঁর থেকে দূরে থাকাই ভালো। ইতিমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ পশুপাখি থেকে দূরে থাকুন।

৩. নাক–মুখ স্পর্শ নয়
হাত দিয়ে আমরা সারা দিন নানা কিছু স্পর্শ করি। সেই বস্তু থেকে ভাইরাস হাতে লেগে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।

৪. কাশির নিয়ম মেনে চলুন
নিজে কাশির আদবকেতা বা রেসপিরেটরি হাইজিন মেনে চলুন, অন্যকেও উৎসাহিত করুন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢাকুন। টিস্যুটি ঠিক জায়গায় ফেলুন।

৫. ঘরে থাকুন
অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৬. খাবারের ক্ষেত্রে সাবধানতা
কাঁচা মাছ–মাংস আর রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা চপিং বোর্ড, ছুরি ব্যবহার করুন। কাঁচা মাছ–মাংস ধরার পর ভালো করে সাবান–পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার গ্রহণ করুন। অসুস্থ প্রাণী কোনোমতেই খাওয়া যাবে না।

৭. ভ্রমণে সতর্কতা
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য দেশ থেকে প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করুন। অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৮. অভ্যর্থনায় সতর্কতা
কারও সঙ্গে হাত মেলানো (হ্যান্ড শেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন

৯. স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন
এ সময়ে কোনো কারণে অসুস্থ বোধ করলে, জ্বর হলে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন। তিনি বিষয়টি গোচরে আনতে ও ভাইরাস ছড়ানো বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অথবা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১।

১০. সঠিক তথ্য জানুন
সঠিক তথ্য-উপাত্ত পেতে নিজেকে আপডেট রাখুন। গুজবে কান দেবেন না। আপনার স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকের কাছে তথ্য জানতে চান।

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১