Categories
কবিতা কিংবদন্তি প্রোফাইল সাহিত্য

জীবনানন্দ দাশঃ আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে

মিডিয়া খবর :-

জীবনানন্দ দাশ (জন্ম: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯, বরিশাল – মৃত্যু: ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪, বঙ্গাব্দ: ৬ ফাল্গুন, ১৩০৫ – ৫ কার্তিক, ১৩৬১) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তাঁর জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধকাল অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তাঁর প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারণ্যে স্বীকৃত।

তার কিছু কবিতা–

বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি ; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি ; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে ;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারি দিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য ; অতি দূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে ; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে ; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল ;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তথন গল্পের তরে জেনাকীর রঙে ঝিলমিল ;
সব পাখী ঘরে আসে – সব নদী – ফুরায় এ-জীবনের সব লেন দেন ;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

০২.

কুড়ি বছর পরে

আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি
আবার বছর কুড়ি পরে-
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে-
কার্তিকের মাসে-
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে – তখন হলুদ নদী
নরম নরম হয় শর কাশ হোগলায়- মাঠের ভিতরে!
অথবা নাইকো ধান ক্ষেতে আর,
ব্যস্ততা নাইকো আর,
হাঁসের নীড়ের থেকে খড়
পাখির নীড়ের থেকে খড়
ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের জল।
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি, বছরের পার,-
তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার!
হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে
সরু -সরু কালো-কালো ডালপালা মুখ নিয়ে তার,
শিরীষের অথবা জামের,
ঝাউয়ের-আমের;
কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে!
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার-
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!
তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে-
বাবলার গলির অন্ধকারে
অশথের জানালার ফাঁকে
কোথায় লুকায় আপনাকে!
চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে।
সোনালি সোনালি চিল- শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে-
কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!

০৩.

ঘাস

কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয়
পুথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের বেলা;
কাঁচা বাতাবির মতো সবুজ ঘাস-তেমনি সুঘ্রাণ-
হরিণেরা দাঁত দিয়ে ছিড়ে নিচ্ছে।
আমারো ইচ্ছা করে এই ঘাসের এই ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো
গেলাসে – গেলাসে পান করি,
এই ঘাসের শরীর ছানি- চোখে চোখে ঘষি,
ঘাষের পাখনায় আমার পালক,
ঘাষের ভিতর ঘাস হয়ে জন্মাই কোন এক নিবিড় ঘাস-মাতার
শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে নেমে।

০৪.

হাওয়ার রাত

গভীর হাওয়ার রাত ছিল কাল- অসংখ্য নক্ষত্রের রাত;
সারারাত বিস্তীর্ণ হাওয়া আমার মশারিতে খেলেছে;
মশারিটা ফুলে উঠেছে কখনো মৌসুমী সমুদ্রের পেটের মতো,
কখনো বিছানা ছিঁড়ে
নক্ষত্রের দিকে উড়ে যেতে চেয়েছে,
এক-একবার মনে হচ্ছিল আমার- আধো ঘুমের ভিতর হয়তো-
মাথার উপরে মশারি নেই আমার
স্বাতী তারার কোল ঘেঁসে নীল হাওয়ার সমুদ্রে শাদা বকের মতো উড়ছে সে!
কাল এমন চমৎকার রাত ছিল।
সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা কাল জেগে উঠেছিল-আকাশে একতিল ফাঁক ছিল না;
পৃথিবীর সমস্ত ধূসরপ্রিয় মৃতদের মুখও সেই নক্ষত্রের ভিতর দেখেছি আমি;
অন্ধকার রাতে অশ্বত্থের চুড়ায় প্রেমিক চিলপুরুষের শিশির – ভেজা চোখের মতো
ঝলমল করছিল সমস্ত নক্ষত্রেরা;
জোছনারাতে বেবিলনের রানির ঘাড়ের ওপর চিতার উজ্জ্বল চামড়ার
শালের মতো জ্বলজ্বল করছিল বিশাল আকাশ!
কাল এমন আশ্চর্য রাত ছিল।

যে নক্ষত্রেরা আকাশের্ বুকে হাজার-হাজার বছর আগে ম’রে গিয়েছে
তারাও কাল জানালার থিবর দিয়ে অসংখ্য মৃত আকাশ সঙ্গে করে এনেছে
যে রুপসীদের আমি এশিরিয়ায়, মিশরে বিদিশায় ম’রে যেতে দেখেছি
কাল তারা অতিদূরে আকাশের সীমানায় কুয়াশায় কুয়াশায় দীর্ঘ বর্শা হাতে করে
কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে গেছে যেন-
মৃত্যুকে দলিত করবার জন্য?
জীবনের গভীর জয় প্রকাশ করবার জন্য?
প্রেমের ভয়াবহ গম্ভীর স্তম্ভ তুলবার জন্য?
আড়ষ্ট- অভিভূত হয়ে গেছি আমি,
কাল রাতের প্রবল নীল অত্যাচার আমাকে ছিঁড়ে ফেলেছে যেন;
আকাশের বিরামহীন বিস্তৃর্ণ ডানার ভিতর
পৃথিবী কিটের মতো মুছে গিয়েছে কাল!
আর উত্তুঙ্গ বাতাস এসেছে আকাশের বুক থেকে নেমে
আমার জানালার ভিতর দিয়ে, শাঁই শাঁই করে,
সিংহের হুঙ্কারে উৎক্ষিপ্ত হরিৎ প্রান্তরের অজস্র জেব্রার মতো!
হৃদয় ভরে গিয়েছে আমার বিস্তীর্ণ ফেল্টের সবুজ ঘাসের গন্ধে,
দিগন্ত-প্লাবিত বলীয়ান রৌদ্রের আঘ্রাণে
মিলনোন্মত্ত বাঘিনীর গর্জনের মতো অন্ধকারের চঞ্চল বিরাট সজীব রোমশ উচ্ছ্বাসে,
জীবনের দুর্দান্ত নীল মত্ততায়!

আমার হৃদয় পৃথিবী ছিঁড়ে উড়ে গেল,
নীল হাওয়ার সমুদ্রে স্ফীত মাতাল বেলুনের মতো গেল উড়ে,
একটা দূর নক্ষত্রের মাস্তুলকে তারায়-তারায় উড়িয়ে দিয়ে চলল
একটা দুরন্ত শুকনের মতো।

০৫.

আমি যদি হতাম

আমি যদি হতাম বনহংস;
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোন এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শবের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে,
তাহলে আজ এই ফাল্গুনের রাতে
ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে
আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে
আকাশের রুপালী শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-
তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন-
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালী ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনালী ডিমের মতো
ফাল্গুনের চাঁদ।

হয়তো গুলির শব্দ;
আমাদের তীর্যক গতিস্রোত,
আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস,
আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!
হয়তো গুলির শব্দ আবার :
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শান্তি।
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না;
থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার;
আমি যদি বনহংস হতাম,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোন এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে।

0৬

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

 ০৭

আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে।
হয়তো শুনিবে এক লক্ষীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে।
হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে।
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙ্গা বায় – রাঙ্গা মেঘে সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে,
দেখিবে ধবল বক; আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।

 ০৮

হায় চিল

হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।
পৃথিবীর রাঙ্গা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!

হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!

Categories
কবিতা সাহিত্য

স্পর্শ

হাসান তারেকের কবিতা

তোমাকে একদিন স্পর্শ করব

যেদিন থিয়েটারে আলো জ্বলে উঠবে

যেদিন তোমার হাঁসের পালকের মতো

নরম হাতে প্রাণ ফিরে আসবে।

যেদিন কোয়ারিন্টনে সব দরজা খুলে যাবে

যেদিন তুমি তুলে ফেলবে সব লকডাউনের বেড়া।

পাখিরা খাঁচা ভেঙে ফিরে যাবে শস্য জমিনে

আকাশের সীমানায় বাসা বাঁধবেনা কালোধোঁয়া

সবুজ পাতা হলুদ হবেনা

অকালে জলের কোলে খেলা করবে মৎস্য শিশু

সেই দিন! সেই দিন দুরে নয় জীবনের হবে জয়

তারপর, তোমাকে আমি স্পর্শ করব

সব মানুষের ভিড়ে।

তোমাকে আমি স্পর্শ কর

সাদা কালো মিলে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

পরমাণু অস্ত্র ফেলে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

রাম রহিমের গন্ধ ঝেড়ে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

ডারউইনে বিবর্তনের ত্বত্ত্বে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

নিউটনের তৃতীয় সুত্রে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

কালমার্কসের মন্ত্রে তোমাকে আমি স্পর্শ করব

রবীন্দ্রনাথের ছন্দে

আমি তোমার সঙ্গে বেধেঁছি আমার প্রাণ।

Categories
কবিতা সাহিত্য

এবার মৃত্যু হয় যদি বারো মাস কোথাও যাবোনা !

মোহাম্মদ আযমের কবিতা

এবার মৃত্যু হয় যদি বারো মাস
কোথাও যাবোনা !
ছায়ার‌ সঙ্গে কাফন ফেরী করে মিশে যাব
বাতাসে আমার সাম্পান চলবে সাগর পাড়ি !
মিশে যাবো লাজুক বাতাসের নড়ে ওঠা কোনো এক ঝোঁপে
কোকিলের সাথে
মিশে রবো পটলের ক্ষেত জুড়ে শুকনো পলের গায়ে !

মানুষ জনম আমার আর হবেনা
হোক , সেটাও আমি চাইনি মাটির কাছে
আমি বরং নক্ষত্রের মতো পলাশ হবো !
কচি বাঁশের স্নিগ্ধ পাতার বাঁশী হলেও
রাখাল মুখে হয়ে থাকবো বাউলা তারের
দিন দুপুরের টিং টং !

কোনোদিন আর মাতৃক্রোড়ে যুদ্ধ যুদ্ধ
এই বাংলায় নয় –
বরং –
মাটির বাড়ির ঢেউ বারান্দা
মায়ের কোমল হাতের আঠালো লেপনিতে
বাবার চোখের ঘুম হবো।
তবু
মানব জনম আর আমি কিছুতেই নেবোনা এই লোকালয়ে !
দেখে নিও তুমি রাত জোনাকী
আমি সোডিয়ামের রঙ বদলানো গিরগিটি মানুষ
না না কখনোই না !!

এক ঝলক বৃষ্টি জল হবো তোমার চোখে
যদিওবা
জল কাঁদা আমি ভীষণ অপছন্দ করি!
তা হোক
যখন তুমি খুব করে আমার মৃত্যুর কথা ভাববে
দুর থেকে না দেখার কষ্টে যখন
গভীর রাত তোমার কষ্টে পোয়াতি হবে
আমি তোমার দুই চোখের বৃষ্টি হবো গো !

হয়তো
নীল ফঁড়িং
গুঁবরে পোকা
ঝিঁ ঝিঁ
জলের মাছ কিংবা মাছের জল
পূবালী পাল তোলা নৌকার গলুই
ষটি বন
কাঁশফুল
জ্যোষ্টি আমের স্বাদ !
একটা কিছু হলেই হোলো !
তবুও
মুত্যুবত রয়ে যাবো এই পৃথিবী জুড়ে !
না, না, মানুষ হবোনা !
শুধু মাত্র স্বরবর্ণের একটি পূর্ব প্রত্যয় জেনে –
‘” অ ” !!
আমি আর কোনোদিন মানুষ হবোনা !!

Image may contain: 1 person, closeup
বদিউল আযম

( অমানুষ )
দৌলতপুর , খুলনা 

Categories
কবিতা সাহিত্য

বন্ধু এক আত্মা ভিন্ন দেহ মাত্র

এনায়েত দাউদীর কবিতা

এক আত্মা

বহুদিন হয়নি পিয়া
বন্ধুত্বের রস ।

অপেক্ষার অন্তগুলো
বিষপানে আগ্রহী হলে ,

হাপিত্যেস বুক চিরে
বলকানো লহিত তরলে লয়
টগবগিয়ে ওঠা বাষ্পের ঘ্রাণ ।

উড়ে উড়ে দেশ বৈদেশে খোঁজে
মধুমাখা কৈশোর সন্ধি ,
কত বেলা হয়নি দেখা
মেলেনি হাত ।

যেখানেই থাকো একাকি নওতো তুমি
এখনও সেই মন্ত্র ,
ওষ্ঠেপৃষ্ঠে লেগে আছে ।

বন্ধু এক আত্মা
ভিন্ন দেহ মাত্র ।

……………………এনায়েত দাউদী

Image may contain: 1 person
Categories
গল্প সাহিত্য

ছোটগল্প – বড় সাধ


— কাজী চপল
রইস বিষন্ন। আকাশটাও যেন তাই। মৃদুমন্দ হাওয়ায় ঝরঝর ঝরছেই। আকাশের রঙটা বেশ ঘোলা। ঘোলাটে আকাশটা দেখে কেমন যেন ঘোর লেগে যায় তার। ভয় হয়। শহরের গলি ঘেষা যে সব বাড়ী সে গুলো যেন খানিকটা নড়েচড়ে হা করে চেয়ে আছে আকাশে। আজ জুঁইকে খুব দরকার ছিল, জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে পিষে ফেলার অভিপ্রায় ছিল।
আকাশের সাথে সাথে বাড়ীগুলো আর সবুজগাছেরা ঘোলাটে হয়ে উঠছে। সেকি!! বাড়ীগুলো উড়ছে যেন। রাস্তাটা এবার এঁকেবেঁকে দুর আকাশে ছুটছে। কেন যে আজ নিখিল ব্যানার্জীর মালকোষটা শুনতে গেল।
জুঁই আমাকে ধর, রইস চোখ বড় বড় করে উথাল পাথাল দুনিয়াটা দেখে।
রাস্তায় উঠে হাঁটা দেয় যেন উঠে গেল আকাশে। দারুণ পথ চলা, পদে পদে উছলে পড়ে যাবার আনন্দ। নিজেকে সামলে নেয় সে। মেঘের কাছকাছি পৌঁছে গেছে রইস।ফাকফোকর গলে সূর্যটা উকি দিয়ে যায়। এমন বেগুনী সূর্য রইসকে জারুল ফুলের মতন রাঙিয়ে দিয়ে গেল।
চারদিকে কোটি কোটি জারুল ফুল, অলৌকিক বেগুনী রঙটা রাস্তাাটাকেও রাঙাল। আকাশ আর ধুসর নেই, অলৌকিক বেগুনী তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
রাস্তাটা এবার নামছে নতুন ভঙ্গীতে তালেতালে হেলেদুলে।
অলৌকিক বেগুনীর চারপাশ ঘুরতে ঘুরতে দাড়াল এক খুরধার চক্রে। কি অপরুপ আর মোহনীয় ধারাল সে চক্র।
রইস এখন একটা প্রকান্ড বেগুনী রঙের ব্লেন্ডারের মধ্যে।
শব্দ করে চালু হয়ে গেল ব্লেন্ডারটা। ঘুরছে সে খুরধার চক্র।
রক্ত মাংস হাড় ধীরে ধীরে হয়ে গেল তরল। লাল শরবতের মতন।
আহা মনমুগ্ধকর সে রঙ। বেগুনীটা আর কোথাও নেই। এখন সব লাল।
ব্লেন্ডারটা নিয়ে ছুটছে কেউ লম্বা লম্বা পা ফেলে।
কলাতিয়ার পাশে পশ্চিম ঢালিকান্দির ধলেশ্বরী নদীতে ঝপাস করে পড়ে গেল তরল রইস। তার সকল অস্তিত্ব জুড়ে কেবল ধলেশ্বরী। নদীর জলে মিলে মিশে একাকার তার অস্তিত্ব।
প্রবহমান ঢেউয়ের দোলে নাচছে যেন রইস। উর্মিমালায় নেচে নেচে ভাটির দেশে চলল রইস।
মাছেরা রইসকে নিজের রক্তমাংসে বড় করে চলে। মাছের পেটে রইসের অস্তিত্ব নতুন করে রুপান্তরিত হয়। নদীও মোহনা ছাড়িয়ে নীল গভীর জলরাশির মধ্যে হারিয়ে যায়।
বিশাল বিশাল মাছেদের পেটে বেড়ে চলে রইস। রইসের অস্তিত্ব এখন আবার রক্ত মাংসে বড় হতে থাকে।
বাঘাড় মাছটা বড্ড ছটফট করছে, রইসের অনুভব কুতুবদীয়ার পান খাওয়া বুড়ো জেলে
হোসেন মিঞার জালে আটকা পড়েছে তার অস্তিত্ব। পঞ্চাশ হাজারে বিক্রি হয়ে গেল মস্ত বাঘাড়টা।
হীম শীতল হয়ে ঝাক্কি খেতে খেতে বাঘাড়টা এখন গুলশান সুপার মার্কেটের ধারাল বটির সামনে। খন্ড খন্ড হয়ে গেল রইস, রইসের অনুভব।
গরম তেলে উল্টে পাল্টে ডুবে ডুবে তৈরী হচ্ছে সে তার সে অস্তিত্ব¡। কড়া মরিচের জ্বলনে গরমে, হরেক মশলায় জারিত হয়ে সে এখন উপাদেয় অস্তিত্ব ।
হেলে দুলে চলেছে একটা সাদা প্লেটে করে, আরেকবার দারুণ মৃদু শব্দ করে রেস্টেুরেন্টের খাবার টেবিলে আছড়ে পড়ল যেন।
জুঁই, সেকি জুঁই। সে যে তার জুঁইয়ের সামনে। একটা ফর্ক নিয়ে রইসের অস্তিত্বকে গেঁথে নিল জুঁই।
সে এখন জুঁইয়ের কন্ঠ বেয়ে নামছে, এইতো ওর বুকের পাশ দিয়ে যাচ্ছে এইতো। স্যালিভারির সাথে মিশে সে এক মিউকাস, হাইড্রোক্লোরিক এসিড আর পেপিসিন তারে নিয়ে যেন খেলা করছে। পেরেস্টোলেসিস হয়ে শোষীত হল অন্ত্রে। ক্ষুদ্রান্ত্র হয়ে এবার সে রক্ত কনিকায়।
সেকি! তার অস্তিত্ব এখন জুঁয়ের ধমনীতে!
ধমনী হয়ে জুঁইয়ের হৃদপিন্ডে ঢুকে পড়ল রইস।
ধক ধক শব্দে হৃদপিন্ডের মাঝে ঘুরপাক খেয়ে চলে রইস, রইসের রক্তিম অস্তিত্ব।
হৃদপিন্ডের প্রতিটি শব্দে তার বড় সাধ হয় জুঁইকে বলবে ভালবাসি।
যেন ধকধক শব্দ না হয়ে তা হয়ে ওঠে ভালবাসি ভালবাসি।
কত কাছে সে এখন, একবারে হৃদপিন্ডের মধ্যে।
বড় সাধইতো হবার কথা।
ভালবাসি কি বলবে সে!!!!!

Categories
নাটক শিল্পকলা

করোনা সচেতনতায় নিথর মাহবুবের স্টে সেফ

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরতে এবং মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে নিজের মূকাভিনয় দিয়ে ভিডিওচিত্রটি নির্মাণ করেছেন মূকাকু খ্যাত নিথর মাহবুব।সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওটিতে নিথর মাহবুবের সঙ্গে আরো অভিনয় করেছেন টুটুল, ফয়সাল, শুভ, সুধাংশু ও মুনিয়া।

সাদা পোশাকে মূকাকু যাচ্ছে আর তাকে অনুসরণ করছে কালো পোশাকের কয়েকজন।এক সময় কালো পোশাকধারীরা ঘিরে ধরে মূকাকুকে।মূকাকু তাদের কাছ থেকে সরে আসতে চায় কিন্তু তারা তার পিছু ছাড়ছে না।মূকাকু ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে যায়।এক পর্যায়ে কালো পোশাকধারীরা অ্যাটাক করে মূকাকুকে।মূকাকু আক্রান্ত হলে কালো পোশাকধারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।তাদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে ভেসে ওঠে মূকাকুর মতো আক্রান্ত হওয়া বিশ্ব মানচিত্রের চিত্র।ইউটিউবে প্রকাশিত ‘স্টে সেফ’ মূকাভিনয় ভিডিওর গল্পটা এমন।এটি করোনাভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রতীকী মূকাভিনয়ের ভিডিও। 

নিথর মাহবুব জানান, ‘সবাইকে সচেতন করতে টানা দুই দিন কাজ করে ভিডিওটি বানিয়েছি। করোনা এমন একটি ভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে।তাই এখন জনসমাগম করে সশরীরে হাজির হয়ে মানুষকে সচেতন করাটা সবার জন্য ক্ষতিকর। তাই ভিডিওচিত্র মাধ্যমটি ব্যবহার করলাম।’ 

Categories
নাটক মঞ্চ শিল্পকলা

২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্যদিবসের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত

আজ বিপর্যস্ত মানব সমাজ। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের এই সংকটে সকল সংস্কৃতি কর্মী বিশ্ব মানুষের পাশে দাঁড়াবে জীবন জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। বৈশ্বিক বিপর্যয়ের এই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারনে বাংলাদেশ সহ সকল দেশেই বিশ্ব নাট্য দিবস এর সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে। ১৯৬২ সাল থেকে সারা বিশ্বে প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও আড়ম্বর আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হয় প্রতি বছর।

দেশে বিশ্বনাট্য দিবস ২০২০ সন্মাননার জন্য ঘোষিত হয়েছে দুটি নাম। মিলন চৌধুরী (নাট্যকার, নির্দেশক) এবং জনাব পরেশ আচার্য্য (অভিনেতা, সংগঠক)।

বিশ্বের নাট্যকর্মী ও শিল্পীদের মাঝে সৌহার্দ স্থাপন ও নাটকের শক্তিকে নতুন করে আবিষ্কার করর লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এর বাংলাদেশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ সম্মিলিতভাবে বিশ্ব নাট্যদিবস উদযাপন করে।

এবছর বাণী দিয়েছেন পাকিস্থানের আজোকা থিয়েটারের কর্ণধার ও নাট্যকার শাহীদ নাদিম। তার কর্মজীবন এবার ১৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং ২০টি ভাষার সংক্ষেপিত রুপ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট। আমরা জানি বিশ্বে বাংলাভাষার স্থান পঞ্চম। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ কেন্দ্র বেশ সক্রিয় থাকা সত্বেও পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা বাংলায় তা অনুবাদ করে প্রচার করেনি আইটিআই।

১৯৮২ সালের জুন মাসে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আইটিআইয়ের নবম কংগ্রেসে বিশ্ব নাট্য দিবস প্রবর্তনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী বছর প্যারিসে অনুষ্ঠেয় (১৯৬২ সালে) থিয়েটার অব ন্যাশনস উৎসবের সূচনার দিনটি অর্থাৎ ২৭ মার্চ প্রতিবছর বিশ্ব নাট্য দিবস উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশেষ মর্যাদায় এই দিনটি উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে।

Categories
জীবনযাপন নিউজ সাহিত্য

করোনাভাইরাস – কী করা যাবে আর কী নয়

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিজেকে আর নিজের পরিবার, স্বজনদের রক্ষা করতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার আপনার ভুমিকা কী হবে এ সময়? কীভাবে আপনি পারবেন এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কিছু উপদেশ দিচ্ছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক।

১. বারবার হাত ধোয়া
নিয়মিত এবং ভালো করে বারবার হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবৎ)। কেন? এ কথা প্রমাণিত যে সাবান–পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুলে এই ভাইরাসটি হাত থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতে ময়লা বা নোংরা দেখা না গেলেও বারবার হাত ধুতে পারেন। তবে বিশেষ করে হাত ধোবেন অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যার পর, হাঁচি–কাশি দেওয়ার পর, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর, পশুপাখির পরিচর্যার পর।

২. দূরে থাকা
এই সময় যেকোনো সর্দি–কাশি, জ্বর বা অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত এক মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কেন? আর সব ফ্লুর মতোই এই রোগও কাশির ক্ষুদ্র ড্রপলেট বা কণার মাধ্যমে অন্যকে সংক্রমিত করে। তাই যিনি কাশছেন, তাঁর থেকে দূরে থাকাই ভালো। ইতিমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ পশুপাখি থেকে দূরে থাকুন।

৩. নাক–মুখ স্পর্শ নয়
হাত দিয়ে আমরা সারা দিন নানা কিছু স্পর্শ করি। সেই বস্তু থেকে ভাইরাস হাতে লেগে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।

৪. কাশির নিয়ম মেনে চলুন
নিজে কাশির আদবকেতা বা রেসপিরেটরি হাইজিন মেনে চলুন, অন্যকেও উৎসাহিত করুন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢাকুন। টিস্যুটি ঠিক জায়গায় ফেলুন।

৫. ঘরে থাকুন
অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৬. খাবারের ক্ষেত্রে সাবধানতা
কাঁচা মাছ–মাংস আর রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা চপিং বোর্ড, ছুরি ব্যবহার করুন। কাঁচা মাছ–মাংস ধরার পর ভালো করে সাবান–পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার গ্রহণ করুন। অসুস্থ প্রাণী কোনোমতেই খাওয়া যাবে না।

৭. ভ্রমণে সতর্কতা
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য দেশ থেকে প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করুন। অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৮. অভ্যর্থনায় সতর্কতা
কারও সঙ্গে হাত মেলানো (হ্যান্ড শেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন

৯. স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন
এ সময়ে কোনো কারণে অসুস্থ বোধ করলে, জ্বর হলে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন। তিনি বিষয়টি গোচরে আনতে ও ভাইরাস ছড়ানো বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অথবা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১।

১০. সঠিক তথ্য জানুন
সঠিক তথ্য-উপাত্ত পেতে নিজেকে আপডেট রাখুন। গুজবে কান দেবেন না। আপনার স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকের কাছে তথ্য জানতে চান।

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১

Categories
আলোকচিত্র কিংবদন্তি খেলাধুলা চলচ্চিত্র জীবনযাপন টেলিভিশন নাটক নিউজ শিল্পকলা সঙ্গীত সাহিত্য

রোজার ঈদে একটি হলে ২ ছবি

আসছে রোজার ঈদে সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই নির্দেশনায় রোজার ঈদের পর থেকে সপ্তাহে একটি হলে মুক্তি পাবে দুটি সিনেমা।  মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিলেও চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি আপাতত একটি হলে সপ্তাহে একটি করে ছবিই মুক্তির রীতি রাখছেন বলে জানিয়েছেন প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতা সামসুল আলম।
কিন্তু স্বাধীনতার আগে কিংবা পরে বাংলাদেশের হলে সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে একটি করে ছবি। অঘোষিত এ নিয়ম চলছে এখনো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা দেশে সিনেমা মুক্তির এই রীতিতে আসছে নতুন  নিয়ম।

সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করেছেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান। যেখানে সপ্তাহে একটি হলে দুটি করে ছবি মুক্তির আবেদন করেন তিনি। যা আমলে নিয়ে কার্যকরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। যার ফলে  সপ্তাহে একটি হলে একটি নয়, মুক্তি পাবে দুটি ছবি।

কিন্তু নতুন নিয়ম মানতে চান না চলচ্চিত্র প্রযোজক কিংবা পরিচালকরা। কারণ নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বছরে ২০৮ টি ছবি মুক্তির দরকার হবে । যা বাংলাদেশে এখন অসম্ভব। বছরে যেখানে মুক্তি পায় মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ টি ছবি। তাই এ নিয়ম মানা সম্ভবনা বলেই জানিয়েছেন পরিচালক ও প্রযোজকরা। 

Categories
অনুষ্ঠান আরো আলোকচিত্র ইভেন্ট কবিতা কিংবদন্তি খেলাধুলা গল্প চলচ্চিত্র চিত্রকলা ছড়া টিভি চ্যানেল টিভি নাটক টেলিভিশন তথ্য প্রযুক্তি নাটক নিউজ নিবন্ধ নৃত্যকলা প্রিন্ট মিডিয়া প্রোফাইল বিজ্ঞাপন জগৎ ব্রডকাস্ট মঞ্চ মতামত মোবাইল ফোন লাইফ স্টাইল শিল্পকলা সঙ্গীত সাক্ষাৎকার সাহিত্য সোশ্যাল মিডিয়া

iPhone 6 Plus review

[dropcap]D[/dropcap]on’t act so surprised, Your Highness. You weren’t on any mercy mission this time. Several transmissions were beamed to this ship by Rebel spies. I want to know what happened to the plans they sent you. In my experience, there is no such thing as luck. Partially, but it also obeys your commands. I want to come with you to Alderaan. There’s nothing for me here now. I want to learn the ways of the Force and be a Jedi, like my father before me. The more you tighten your grip, Tarkin, the more star systems will slip through your fingers.

We hire people who want to make the best things in the world. -Steve Jobs

She must have hidden the plans in the escape pod. Send a detachment down to retrieve them, and see to it personally, Commander. [highlight color=”yellow”]There’ll be no one to stop us this time![/highlight] You’re all clear, kid. Let’s blow this thing and go home! Partially, but it also obeys your commands.

  • Dantooine. They’re on Dantooine.
  • He is here.
  • Don’t underestimate the Force.

[tie_full_img]lead-iphone6plus[/tie_full_img]

I care. So, what do you think of her, Han? A tremor in the Force. The last time I felt it was in the presence of my old master. [highlight color=”blue”]But with the blast shield down,[/highlight] I can’t even see! How am I supposed to fight? Obi-Wan is here. The Force is with him. But with the blast shield down, I can’t even see! How am I supposed to fight? You are a part of the Rebel Alliance and a traitor! Take her away!

[padding right=”5%” left=”5%”]
Still, she’s got a lot of spirit. I don’t know, what do you think? What!? I don’t know what you’re talking about. I am a member of the Imperial Senate on a diplomatic mission to Alderaan– What good is a reward if you ain’t around to use it? Besides, attacking that battle station ain’t my idea of courage. It’s more like…suicide.
You don’t believe in the Force, do you? Obi-Wan is here. The Force is with him. I call it luck. Look, I can take you as far as Anchorhead. You can get a transport there to Mos Eisley or wherever you’re going. What?! The Force is strong with this one. I have you now.

  1. I care. So, what do you think of her, Han?
  2. You mean it controls your actions?
  3. Look, I can take you as far as Anchorhead. You can get a transport there to Mos Eisley or wherever you’re going.
  4. I’m trying not to, kid.

[/padding]

You’re all clear, kid. [highlight color=”green”]Let’s blow this thing and go home![/highlight] But with the blast shield down, I can’t even see! How am I supposed to fight? Alderaan? I’m not going to Alderaan. I’ve got to go home. It’s late, I’m in for it as it is.