Categories
কিংবদন্তি শিল্পকলা সঙ্গীত

জন্মদিনে ফেরদৌস ওয়াহিদ কোয়ারেন্টিনে

২৬ মার্চ ফেরদৌস ওয়াহিদের জন্মদিন। বিশেষ দিনটিও তিনি কাটাচ্ছেন শ্রীনগরেই। কারণ, সরকারের নির্দেশ মেনে সুনাগরিকের মতো ঘরের ভেতরেই থাকছেন তিনি।

তিনি জানান, অন্য বছর এদিনে পাড়ার মানুষেরা রাতে জমায়েত হতেন তাঁর বাড়িতে। রাতে একসঙ্গে নৈশভোজ করতেন সবাই। এবার কাউকেই ডাকেননি। এমনকি স্ত্রী-ছেলের সঙ্গেও দেখা হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ঢাকায় যাওয়ার কথা ভাবেননি, পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়ম মানতে গিয়ে গ্রামে আসতে পারেননি।

ফেরদৌস ওয়াহিদের এখন গ্রামেই ভালো লাগে। শহরের পাট একপ্রকার চুকিয়েই ফেলেছেন। ঢাকায় গেলে ছেলে মিউজিশিয়ান হাবিব ওয়াহিদের বাসাতেই ওঠেন। গান-বাজনা যেটুকু করার গ্রামে থেকেই করেন। আর অনুষ্ঠান থাকলে তখন যেতে হয়ই। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রোতাদের গান শোনাতে যাওয়ার কথা ছিল। বাদ সাধল করোনা।

করোনা নিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ তাঁর নতুন এক উপলব্ধির কথা জানালেন প্রথম আলোকে। ‘১৯৮৬, ’৮৭, ’৮৮ সালে আমি নিয়মিত ইতিকাফ (স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে প্রার্থনা) করেছি। আজ সকালে সে কথা আমার মনে পড়ে গেল। সকালে আমার মনে হলো, কোয়ারেন্টিন একরকমের ইতিকাফই তো! নিজের সম্পর্কে আমরা নতুন উপলব্ধির মুখোমুখি হই ইতিকাফে। নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারি।’

ঢাকা থেকে প্রায় আড়া শ কিলোমিটার দূরে, শ্রীনগরে ফেরদৌস ওয়াহিদের পৈতৃক ভিটা। বিক্রমপুরের সন্তান বলেই নিজেকে পরিচয় দেন। যতই বয়স বাড়ছে, নাড়ির টান প্রবল হচ্ছে তাঁর। শিল্পী জানান, গ্রাম থেকে কখনোই ছিটকে পড়েননি তিনি। সব সময় গ্রামে সময় দিয়েছেন। তাঁর পাড়ায় ১২০ জন মানুষের বাস। এদের নিয়েই সুখে-দুঃখে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান গান গেয়ে সারা দেশের মানুষের ভালোবাসা পাওয়া ফেরদৌস ওয়াহিদ।