Categories
নিউজ

মনের চাপ কমাতে কি করবেন!

লকডাউনের সময়টায় সামাজিক দূরত্ব বজিয়ে রাখার কথা বলা হচ্ছে। বাইরে যাওয়া যাবে না, কারোর সঙ্গে দেখা করা বা আড্ডা দেওয়া যাবে না, হ্যান্ডশেক পর্যন্ত করা যাবে না। এতেএত বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে থাকতে অধিকাংশ মানুষ ননা রকম জটিলতায় ভুগছেন। কত রকমের স্বপ্ন দেখছেন জীবনের। স্মৃতিকাতরতায় নিমগ্ন হচ্ছেন। অনেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটান এখনই। এড়িয়ে চলুন যাবতীয় দুশ্চিন্তা। মনকে বোঝান, যে বিষয়গুলোর উপর আপনার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেও লাভ নেই।

সারা দিন বাড়িতে বসে বসে কাটাবেন না। কিছু শারীরিক কসরত করুন। বাড়ির বারান্দায় বা ছাদে হাঁটুন, জগিং করুন। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও করতে পারেন। কিছু না হলে সিঁড়ি ভেঙে ওঠা-নামা করুন। ব্যায়ামটা দিনের শুরুতেই করে ফেললে সারা দিন বাড়তি এনার্জি পাবেন।

আপনার স্বাভাবিক রুটিন কিন্তু অনেকটাই বদলে গেছে। কাজেই এই সময়ের জন্য একটা নতুন রুটিন বানিয়ে নিতে হবে। তার জন্য আমাদের ঘুমের প্যাটার্নটা একটু বদলে নিতে হবে। রাত জেগে কাজ করার অভ্যেস ছাড়তে হবে। রাতে ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়ুন। আর সকালে ওঠার জন্য ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন না। স্বাভাবিক ভাবেই ঘুমটা ভাঙতে দিন। এতে প্রথম ক’দিন আপনি একটু বেশি ঘুমোতে পারেন। কিন্তু খুব শীঘ্রইএকটা ছন্দ চলে আসবে। তখন আর অসুবিধা হবে না।

দুপুরে একেবারেই ঘুমোবেন না। বাড়িতে থাকলে দুপুরে খাওয়ার পর চোখ জড়িয়ে আসতে পারে ঘুমে। কিন্তু ঘুমোবেন না। তাতে আপনার রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যাবে। তবে আগের রাতে যদি একদমই ঘুম না হয়ে থাকে, তবে একটু চোখ বুজে নিতে পারেন। খুব বেশি হলে মিনিট দশ-পনেরোর জন্য।

দুপুরে ঘুম এড়াতে শোয়ার ঘরে বসে কাজ করবেন না। তাতে বিছানায় গা একটু এলিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। তাই কাজের সময় শোয়ার ঘরটা এড়িয়ে চলুন। বিছানায় নয়, চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করুন। প্রয়োজনীয় স্টেশনারি হাতের কাছে রাখুন। ঘড়ি ধরে কাজ করুন, যেমনটা অফিসে করেন। তাতে খানিকটা অফিসে বসে কাজ করার মতো মনে হবে।

রাতে ঘুম না হওয়া রুখতে দিনে কফি খাওয়ার পরিমাণ কমান। এমনিতেই অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যার পর কফি না খাওয়াই উচিত। কফির নেশা থাকলে দিনের বেলায় খান। তবে দু’তিন কাপের বেশি নয়। কিন্তু সন্ধ্যা বা রাতের দিকে একেবারেই নয়।

এছাড়া, রাতের খাবার খুব দেরি করে খাবেন না। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে টিভি বন্ধ করে দিন। এড়িয়ে চলুন মোবাইল। ঘরের আলো কম রাখুন। ঘরের পরিবেশ যেন যথাসম্ভব আরামদায়ক থাকে। ঘুম না এলেও রোজ নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যান।