Categories
নিউজ শিল্পকলা

লিয়াকত আলী লাকী পুনরায় তিন বছরের জন্য শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক

মিডিয়া খবর: – কাজী চপল

আবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করবেন বর্তমান মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এই নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন বাংলাদেশ গ্ৰুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সন্মানিত চেয়ারম্যান, লোক নাট্যদলের কর্ণধার অভিনেতা নির্দেশক লিয়াকত আলী লাকী। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রানালয়ের সচিব জনাব অলিউর রহমানের সাক্ষরিত এক পত্রে এ আদেশ দেয়া হয়। আজ থেকে তিন বছর পর্যন্ত এ পদায়ন পুনরায় বহাল করা হয়েছে। অভিনন্দন প্রিয় লাকী ভাই।

মঞ্চের সাথে লিয়াকত আলী লাকীর যুক্ততা এবং সখ্যতা তৈরী হয়েছে সেই শিশুকাল থেকেই। ১৯৬৪ সালে নিজ গ্রামের স্কুলে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে নাটক করতে শুরু করেছেন তিনি। শিশুকাল থেকে নাটকের সাথে

যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে নিজেদের পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে স্কুলের সহপাঠী ও অন্যান্য স্থানীয় বন্ধুবান্ধব সবাইকে একত্রিত করে দল গঠন করে কিশোর লাকী গ্রামে ঈদপার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে নাটকের নির্দেশনা ও অভিনয় করেন। এভাবে গড়ে তোলেন নিজস্ব নাট্যদল ‘বাসন্তী নাট্য সংঘ’। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত প্রায় ২৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং ২৩টি নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন। শৈশবে নাটক তৈরীতে কাহিনী সংগ্রহ করতেন নিজেদের পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন গল্প কবিতা থেকে। পরবর্তীকালে কল্যাণ মিত্র, প্রসাদ বিশ্বাস, ফয়েজ আহমেদ, আব্দুল লতিফ, দিলীপ সরকার, ভৈরবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শৈলেন গুহ নিয়োগী, শম্ভু মিত্র, আসকার ইবনে শাইখের নাটক মঞ্চস্থ করেন। নাটক করার প্রবল বাসনা শিশুকাল থেকেই দানা বেঁধে বসে তাঁর হৃদয়ে। এভাবে নাটককে সত্বায় ধারণ করে ক্রমে শিশু লাকী শৈশব পেরিয়ে যৌবনে তারপর ধীরে ধীরে আজকের এই পূর্ণ সত্ত্বায় পরিণত হয়েছেন। আর শিশুকাল থেকে নাটকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় লিয়াকত আলী লাকী শিশু মনের গভীর থেকে উপলব্ধি করতে পারেন শিশুনাট্য আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা।

বাংলাদেশের স্তিমিত শিশু নাট্যচর্চায় প্রাণপ্রাচুর্য্য সঞ্চার করে বিশ্ব নাট্যসভায় শিশু নাটককে সম্মানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের শিশু-কিশোর নাট্যান্দোলনের প্রধান পুরুষ শিশুদের বন্ধু লিয়াকত আলী লাকী। ১৯৫৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা টিকরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা শেখ সাদেক আলী এবং মাতা মাজেদা আলী। লিয়াকত আলী লাকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে সম্মানসহ মার্স্টাস সম্পন্ন করেন। ডিপ্লোমা অর্জন করেন গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পাশাপাশি জাপান দূতাবাস থেকে এক বছরের জাপানী ভাষা শিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করেন। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী লিয়াকত আলী লাকী বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতে ৫ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে একাধারে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি, সংগীত রচনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সকলের হৃদয়ে। এ প্রসঙ্গে লোক নাট্যদলের একযুগপূর্তি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের সাবেক চেয়ারম্যান, জনাব লাকীর শিক্ষক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এর ব্যক্ত করা অনুভূতিটি স্মরণ করা যেতে পারে, “লাকী যদি শুধু সংগীতকেই ওর জীবনের সাথে ধরে রাখতো তাহলে শিল্পের এই ক্ষেত্রটি যথেষ্ট সমৃদ্ধি

Related image

পেত ওর হাতে।”আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গভীরভাবে বিশ্বস্ত থেকে জনাব লিয়াকত আলী লাকী একাধারে নাট্যাভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, নাট্যকার, সংগীতশিল্পী, সুরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি অভিনয় করেছেন ৫৮টি নাটকে, নির্দেশনা দিয়েছেন ৮২টি, আর রচনা, রূপান্তর ও নাট্যরূপ দিয়েছেন ৮টি নাটক এর।১৯৮১ সালের ৬ জুলাই একদল শিক্ষিত তরুণ নিয়ে ‘লোক নাট্যদল’ প্রতিষ্ঠা করেন। আজ অবধি তিনি লোক নাট্যদলের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের নাটককে আন্তর্জাতিক আসরে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, নাটকের মাধ্যমে শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরী করা, দেশে প্রথমবারের মত একটি নাট্য তথ্যব্যাংক স্থাপনসহ ৬টি কর্মসূচিকে সমন্বয় করতে ১৯৯০ সালে পিপল্স থিয়েটার এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে সহ-সভাপতি। ইন্টারন্যাশনাল এ্যামেচার থিয়েটার এসোসিয়েশন (ওঅঞঅ) বাংলাদেশ কেন্দ্রের প্রধান লিয়াকত আলী লাকী এশিয়ান রিজিওনাল কমিটির সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি আই.টি.আই বাংলাদেশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সদস্য। লিয়াকত আলী লাকী বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার

Related image

ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । ইতিপূর্বে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে তিনবার ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে নাটকের ক্ষেত্রে নব জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ৬৪টি জেলা থেকে সকল উপজেলায় এখন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম সম্প্রসারিত। তিনি সংস্কৃতিকর্মীদের সহায়তাকল্পে প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিকর্মী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকসু’র সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লাকী ১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিল্পী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। নব পর্যায়ে আবৃত্তি, পথনাটক ও গণসংগীত প্রসারের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৩-১৯৮৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি আবৃত্তি আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। র‌্যাগ ডে’র পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনের তিনি অন্যতম সংগঠক। চিলড্রেন ও ইয়ুথ কমিটির সদস্য তিনি।সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য লিয়াকত আলী লাকী ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৯৯৮ সালে অজিত চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিনাট্যপুরস্কার লাভ করেন। ‘কীড্স, চট্টগ্রাম’ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক হিসেবে ‘কীড্স পদক’ পান ১৯৯৯ সালে। ২০০০ সালে ইউনিক গ্রুপ স্বর্পপদক পান। একই সাথে থিয়েটার এ্যাম্বিশন বগুড়া তাঁকে ‘শিশু বন্ধু’ পদকে ভূষিত করে। শিশুকেন্দ্র, চট্টগ্রাম শিশু নাট্যকর্মকান্ডে অবদানের জন্য তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক-২০০১’ পদকে ভূষিত করে। ২০০৩ সালে সুন্দরম, হবিগঞ্জ লিয়াকত আলী লাকী কে শিশু নাটকে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পদক প্রদান করে। শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক হিসেবে কলকাতা থেকে ‘সমলয়’ পুরস্কার লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বাংলার মুখ সংগঠন কর্তৃক প্রদত্ত দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (বাংলাদেশ)-র জন্য ‘বাংলার মুখ’ পুরস্কার লাভ করেন। আসিটেজ কর্তৃক ’আর্টিস্টিক এক্সেলেন্স ফর চিলড্রেন এন্ড ইয়ুথ থিয়েটার ২০১১’, ‘মুনীর চৌধুরী পদক ২০১৩’ ও ২০১৫ সালে ‘কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী সম্মাননা’ লাভ করেন।অভিনেতা হিসেবে লিয়াকত আলী লাকী অনন্যসাধারণ। ‘এ মিড সামার নাইট্স ড্রিম’ এ বটম, ‘অন্ধ নগরীর চৌপাট রাজায়’ গুরু, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ এ পুলিশ অফিসার, ‘হেলেন’ নাটকে মেনেসাওস, ‘কঞ্জুস’ এর কালা মিয়া, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ এর হোসেন মিয়া, ‘টেম্পেস্ট’ এর ট্রিংকালো, ‘সোনাই মাধব’ এর ভাবনা, ‘সিদ্ধিদাতা’ তে গুরু ও  ‘লীলাবতী আখ্যান’ এ বরাহ চরিত্রের অভিনয় অনবদ্য এবং দর্শকের স্মৃতিপটে অক্ষয় পদচিহ্ন এঁকেছেন।লিয়াকত আলী লাকী বাংলাদেশের একজন স্বকীয় ধারার অন্যতম নাট্য নির্দেশক। তার নির্দেশিত রথযাত্রা, পদ্মানদীর মাঝি, বিধি ও ব্যতিক্রম, কঞ্জুস, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, হেলেন, সোনাই মাধব, সিদ্ধিদাতা, মহাপ্রয়ান, মধুমালা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মাঝরাতের মানুষেরা এবং শিশুদের নাটক সংহার, ববি, তাসের দেশ, বাজাও বিশ্ববীনা, সিন্ডারেলা, আলীবাবা, রূপবদলের রূপকথা, লালু, আমাদের পৃথিবী, রাস্তার ছেলে প্রভৃতি নাটক বাংলাদেশের নাট্যান্দোলনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

Related image


আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে লিয়াকত আলী লাকী’র রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি ১৯৮৪ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত গান্ধী শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের যুব সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৩ সালে মোনাকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব, কর্মশালা এবং ২১তম আন্তর্জাতিক থিয়েটার কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালে ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক থিয়েটার অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে মোনাকোতে অনুষ্ঠিত ২৩তম আন্তর্জাতিক থিয়েটার কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বসহ আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ সালে জার্মানির লিংগেন শহরে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম আন্তর্জাতিক শিশু নাট্য উৎসবে তাঁর নির্দেশিত ‘সংসার’, ‘ববি’ ও ‘লালু’ বিপুল প্রশংসা লাভ করে এবং তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৪ সালে জাপানের তইয়ামা শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান রিজিওনাল থিয়েটার সামিটে বাংলাদেশের

Related image

প্রতিনিধিত্ব করেন।১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে কানাডার রাজধানী মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত আই.এ.টি.এর আর্টিস্টিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোরিয়ার চুনচুন সিটি ও জাপানের তইয়ামায় আন্তর্জাতিক সেমিনার ও নাট্য উৎসবে যোগদান করেন। ২০০০ সালে জার্মানীতে এক্সপো হ্যানোভার ২০০০ এর কালচারাল ফেস্টিভ্যালে এবং বার্লিনের ডাহলেম মিউজিয়াম অডিটোরিয়ামে তাঁর নির্দেশিত ‘তাসের দেশ’ ও ‘বাজাও বিশ্ববীণা’ বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। ঐ একই বছর জাপানের তইয়ামায় অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু নাট্য উৎসবে ‘রূপ বদলের রূপকথা’ ও ‘বাজাও বিশ্ববীণা’ বিপুল প্রশংসা অর্জন করে। ২০০১ সালে তুরস্কের ডেনিজলীতে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক এ্যামেচার থিয়েটার উৎসবে ‘রথযাত্রা’ বিপুলভাবে প্রসংশিত হয়।

লিয়াকত আলী লাকী নির্দেশিত ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ ২০০১ সালে মোনাকোতে অনুষ্ঠিত অ্যামেচার থিয়েটার উৎসবে এবং লন্ডনে ‘কঞ্জুস’ মঞ্চায়ন করে ভূয়সী প্রসংশা লাভ করে। এ সময় এ দল ইতালি ও ফ্রান্স ভ্রমণ করে। একই সময়ে আই.এ.টি.এর বাংলাদেশ কেন্দ্র পিপল্সথিয়েটার এসোসিয়েশন এর প্রধান লিয়াকত আলী লাকী মোনাকোতে অনুষ্ঠিত ২৪তম আন্তর্জাতিক থিয়েটার কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরের বছর ২০০২ সালে কোরিয়ার চুনচুন সিটিতে অনুষ্ঠিত নাট্যোৎসবে লোক

নাট্যদলের নেতৃত্ব প্রদান করেন। উৎসবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রথাযাত্রা মঞ্চায়ন করে। ২০০২ সালে গ্রীসে অনুষ্ঠিত আই টি আই কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং মিউজিক থিয়েটার কমিটির সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। একই সময়ে সুইডেনে ১০ দিনব্যাপী থিয়েটার কর্মশালায় যোগদান করেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কমিউনিটি থিয়েটার আয়োজিত ‘এএসিটি ওয়ার্ল্ড ফেস্ট’-এ লোক নাট্যদলের নেতৃত্ব দেন তিনি। এছাড়াও ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিদেশে থিয়েটার বিষয়ক অসংখ্য উৎসব, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও পরিচালনা করতে লিয়াকত আলী লাকী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মোনাকো, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, লোক নাট্যদল, পিপল্স থিয়েটার এসোসিয়েশন, নাট্য তথ্যব্যাংক, অ্যামেচার থিয়েটার এসোসিয়েশন, পিপল্স লিট্ল থিয়েটার, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে লিয়াকত আলী লাকী জাতীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করে চলেছেন। বাংলাদেশের সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তি লিয়াকত

আলী লাকী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও সকল গণআন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা সহ অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের নব শিশু নাট্যান্দোলনের প্রধান পুরুষ লিয়াকত আলী লাকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ২৫০টি শিশু নাট্যদল সংগঠিত হয়ে নিয়মিত নাট্যচর্চা করে চলেছে। ইন্টারন্যাশনাল এ্যামেচার থিয়েটার এসোসিয়েশনের বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্টার স্থাপনের প্রধান ব্যক্তি এবং ঐ এসোসিয়েশনের আর্টিস্টিক স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে লিয়াকত আলী লাকী এভাবেই আন্তর্জাতিক নাট্যক্ষেত্রে রেখে চলেছেন তার ঐতিহাসিক ভূমিকা।

শিল্পকলায় 'সোনাই মাধব' - Bhorer Kagoj


No photo description available.





Categories
নিউজ

সংস্কৃতিকর্মী ও লোকশিল্পীদের জন্য ৫০কোটি টাকা অনুদান দাবী

করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের জাতীয় জীবনে যে সংকট এসেছে তার মুখোমুখি আজ সংস্কৃতিকর্মী এবং লোকশিল্পীগনও আছেন। তাদের আয়ের পথ আরো রুদ্ধ। তাদের জন্য প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়ে জাতীয় ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

যৌথ বিবৃতি-

আমরা সকলেই জানি যে, এদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা প্রধানত সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সংস্কৃতি চর্চা করে থাকে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আজ কয়েক হাজার সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংস্কৃতি চর্চায় নিয়োজিত রয়েছে। এ সমস্ত দলের অধিকাংশ সদস্যই ছোট চাকুরি, ব্যবসা, টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করে- আবার অনেকে রয়েছে ছাত্র এবং বেকার। করোনা সংকটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পরিবারগুলো ব্যাপক আর্থিক অনটনের মধ্যে দিনযাপন করছে। অপরদিকে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার লোকশিল্পী অস্থিত্বের সংকটে নিমজ্জিত। এমনই পরিস্থিতিতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন মহাসংকটের মুখোমুখি।পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে তিনটি দাবী পূরণের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

দাবীগুলো হচ্ছে :

১. আপদকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় অসচ্ছল সদস্যদের সহায়তার জন্য প্রত্যেক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে পূর্বের নির্ধারিত আর্থিক বরাদ্দের অর্থ দ্বিগুন করে প্রদান করা হোক।

২. তালিকাভূক্ত অসচ্ছল শিল্পীদের প্রত্যেকের নামে বাৎসরিক বরাদ্দ দ্বিগুণ প্রদান করা হোক।

৩. দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার লোকশিল্পীদের তালিকা শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রণয়ন করে তাদের প্রত্যেককে এককালীন নূন্যতম ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হোক। সার্বিক সংকট মোকাবেলায় উপরিউক্ত খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিকট উদাত্ত আহবান জানাই।

বিবৃতিদাতাগন হলেন –

গোলাম কুদ্দুছ – সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
হাসান আরিফ – সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
লিয়াকত আলী লাকী – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।
কামাল বায়েজীদ – সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।
আসাদুজ্জামান নূর, এমপি – সভাপতি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
আহকামউল্লাহ – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
ড. মুহাম্মদ সামাদ – সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ।
তারিক সুজাত – সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ।
মান্নান হীরা – সভাপতি, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ।
আহাম্মেদ গিয়াস – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ।
ফকির আলমগীর – সভাপতি, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ।
মানজারুল ইসলাম চৌধুরী সুইট – সাঃ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ।
মিনু হক – সভাপতি, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা।
শেখ মাহফুজুর রহমান – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা।
জামাল আহমেদ – সভাপতি, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ।
কামাল পাশা চৌধুরী – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ – সভাপতি, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র।
দেবপ্রসাদ দেবনাথ – সাধারণ সম্পাদক, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র।

Categories
নিউজ শিল্পকলা

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আহবান বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষকে সঠিক নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেতারা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ জাতীয় ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমূহের এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন – বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান

বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্থ। এর ঢেউ বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করোনা প্রতিরোধে সরকার ও স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ের সকল নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলার জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই। মনে রাখতে হবে সচেতনতাই এই রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

জাতীর এই ক্রান্তিকালে আমরা দেশের সকল ধারার সংস্কৃতিকর্মীদের নিকট উদাত্ত আহবান জানাই নিজ নিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আসুন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াই, গরীব ও দুস্থ মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসি। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ আঁধার কাটিয়ে উঠবোই।

বিবৃতিদাতাগণ

গোলাম কুদ্দুছ – সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট
হাসান আরিফ – সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট
লিয়াকত আলী লাকী – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান
কামাল বায়েজীদ – সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান
আসাদুজ্জামান নূর, এমপি – সভাপতি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ
আহকামউল্লাহ – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ
ড. মুহাম্মদ সামাদ – সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ
তারিক সুজাত – সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ
মান্নান হীরা – সভাপতি, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ
আহাম্মেদ গিয়াস – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ
ফকির আলমগীর – সভাপতি, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ
মানজারুল ইসলাম চৌধুরী সুইট – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ
মিনু হক – সভাপতি, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা
শেখ মাহফুজুর রহমান – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা
জামাল আহমেদ – সভাপতি, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ
কামাল পাশা চৌধুরী – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ
নাসির উদ্দিন ইউসুফ – সভাপতি, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র
দেবপ্রসাদ দেবনাথ – সাধারণ সম্পাদক, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র।