Categories
জীবনযাপন

চোখের বিশ্রাম নিন

করোনাকালে বাসায় বসে কখনও অফিসের কাজ, রাত জেগে সিনেমা বা সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ, মোবাইলে চোখ রেখে চলে যাচ্ছে আমাদের সময়। চোখের উপর চাপটাও একটু বেশি পড়ছে। চোখকে বিশ্রাম দিন।

একটানা মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা থেকে চোখকে রক্ষা করতে মাঝে মাঝে দ্রুত চোখের পলক ফেলুন।

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করবেন না। মাঝে মাঝে চোখকে একটু বিশ্রাম দিন। আধা ঘণ্টা পর পর এক মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করে রাখুন। অথবা দূরে সবুজের দিকে তাকিয়ে রাখুন।

কাত হয়ে বা শুয়ে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। এতেও চোখের উপর বাড়তি চাপ পড়বে।

যারা কনট্যাক্ট লেন্স পরেন, তারা একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি লেন্স পরে থাকবেন না।

অতিরিক্ত আলোতে কখনও কাজ করবেন না।

অন্ধকার বা খুব সামান্য আলোয় মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করবেন না।

চোখের পরিচর্যায় যা করবেন!

১. চোখের অশ্রুনালির কাছে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করলে চোখের আর্দ্রতা বাড়ে এবং চোখের প্রশান্তি দেয়। চোখের পাতার ওপর মৃদুভাবে তিন আঙুল দিয়ে চক্রাকারে ম্যাসাজ করতে পারেন। ১০ বার ঘড়ির কাঁটার দিকে ও ১০ বার বিপরীত দিকে এ ম্যাসাজ করুন। চোখের দুই পাতার মাঝখানে তিনবার ম্যাসাজ করতে পারেন।

২. যারা কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেন তাদের চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। তাদের জন্য ব্যায়াম হচ্ছে একটানা না তাকিয়ে থেকে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলা। কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় সাধারণের তুলনায় ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন। এতে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

৩. দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে কিছুক্ষণ পর পর টানা দুই মিনিট চোখ পিটপিট করুন। এই ব্যায়াম আপনার চোখের রক্তসরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে। কিছুক্ষণ পর পরই এই ব্যায়াম করলে সুফল পাবেন।

৪. মাথাটা স্থির রেখে চোখ দুটো বন্ধ করুন। এবার ধীরে ধীরে চোখের মণি দুটো একবার ওপরে ও একবার নিচে করুন। এভাবে করুন ১০ বার। চোখের আরামের জন্যে উপকার পাবেন।

৫. কাজের ফাঁকে খানিকটা সময় চোখ বন্ধ করে রাখুন। হাতে হাত ঘষে হাতের তালু কিছুটা গরম করে নিয়ে বন্ধ চোখের ওপর রাখুন। হাতের তালু এমনভাবে রাখবেন যাতে ভেতরে কোনো আলো না যেতে পারে। ২ মিনিট এভাবে চোখ বন্ধ রাখুন। দিনে বেশ কয়েকবার এভাবে করুন। এতে চোখের রক্ত সরবরাহ বাড়বে এবং চোখের পেশি সক্রিয় থাকবে।

Categories
টিভি নাটক টেলিভিশন

আবার আসছে নাটক পালকী

দীপ্ত টিভির সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক পালকী আবার সম্প্রচার শুরু হয়েছে। ৭৩৭তম পর্ব প্রচারের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২১ এপ্রিল থেকে এটি পুনরায় দেখান শুরু করেছে চ্যানেলটি। প্রতি সপ্তাহে শনি থেকে শুক্রবার রাত ১০টায় দীপ্ত টিভিতে চলছে পালকী। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত। সেসময় একসঙ্গে তিনটি মেগা ধারাবাহিক প্রচার শুরু করে চ্যানেলটি। তার মধ্যে অন্যতম হলো পালকী।

সে সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক পালকি। নাটকটি দশর্কের মন এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে, চরিত্রের নামানুসারে অভিনয় শিল্পীদের নামকরণ হয়ে গিয়েছিলো। শোনা যায় আজও দর্শক এ নাটকের অভিনয় শিল্পীদের চরিত্রের নামে সম্মোধন করেন। বলা যায়, বিটিভির পর এই প্রথম কোন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের কোন ধারাবাহিক এত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে মেগা সিরিয়াল পালকী।
সে গ্রামের সহজ-সরল এক কিশোরী। মেধাবী ছাত্রী পালকী লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হতে চায়। যার খুব আশা, পালকী চড়ে যাবে শ্বশুরবাড়ি। সৎ মায়ের চক্রান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া পালকীর ঘটনাক্রমে সঙ্গে দেখা হয়ে যায় স্বাধীনচেতা সাব্হার। সে পালকীকে নিজের বাসায় নিয়ে আসে। সাব্হার স্বপ্ন অনেক বড় অভিনেত্রী হওয়ার। স্বপ্নভঙ্গ হয় সে যখন শোনে, সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে। বর ঢাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বিখ্যাত রহমান পরিবারের ছেলে সোহেল। কিন্তু ঘটনাচক্রে পালকীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় সোহেলের। শুরু হয় পালকীর জীবনের নতুন অধ্যায়।

শ্বশুরবাড়িতে কেউ তাকে মেনে না নিলেও নিজের ভালোবাসা ও সাধনায় সবার মন জয় করে নেয় সে। অনেক প্রতিকূলতা পার হয়ে পালকি রহমান পরিবারের পুত্রবধূর স্বীকৃতি পায়। এরপর পালকি তার স্বপ্নপুরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। সাধারণ মেয়েদের অসাধারণ করার লক্ষ্যে, রহমান গ্রুপ-এর সহযোগিতায় তৈরি করে পালকি ফাউন্ডেশন। পুরানো শত্রুতার জেরে বন্ধ হয়ে যায় রহমান গ্রুপস ও পালকি ফাউন্ডেশন। পালকির কাঁধে এসে পড়ে আর্থিক সমস্যায় বিপর্যস্ত রহমান পরিবারকে সামলানোর দায়িত্ব। পালকি কি পারবে সব দায়িত্ব পালন করে তার অসাধারণ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে পৌঁছাতে? এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে মেগা সিরিয়াল ‘পালকি’।

নাটকটির লাইন প্রডিউসার ও পরিচালক মোস্তফা মনন জানালেন, করোনার কারণে নতুন কোন ধারাবাহিক আপাতত প্রচার হচ্ছে না। আর পুরনোগুলোর মধ্যে ‘পালকী’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। এদেশের অনেকেই এই নাটকের চরিত্রগুলো মিস করেন। এ জন্য এটি আবারও প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Image may contain: 2 people, including Kazi Shila, people smiling

নাটকটিতে পালকী চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্নিগ্ধা মোমিন এবং তানিয়া বৃষ্টি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতু রাতিশ, রানী আহাদ, কাজী ‍শিলা, হোসেন নীরব, ঝুনা চৌধুরী, নূনা আফরোজ, মোহাম্মদ বারী, সুজাতা, গীতশ্রী, শিরিন আলম, পীযুষ দ্রাবিড়, আরজুমান্দ আরা বকুল, আমিনুল, সূচনা তিশা, ফারিয়া,মর্জিনা মুনা, মিরা সহ অনেকে।

Image may contain: Snigdha Momin