Categories
নিবন্ধ

এই সময়ে শিশুর যত্ন নিন

অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করছে, শুরু হচ্ছে ভ্যাপসা গরমের দিন।কখনোবা হঠাৎ নামছে বৃষ্টি। এই আবহাওয়ায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে কত কষ্ট হয় সকলের। শিশুদের প্রতি ভালভাবে যত্ন নেয়া প্রয়োজন। বড়দেরই বুঝতে হবে শিশৃদেরকখন কি প্রয়োজন। করোনার সময়ে এই গরমের দিনে কীভাবে আপনার শিশুকে সাহায্য করবেন খাপ খাইয়ে নিতে জেনে নিন।

১. মহামারী বা দুর্দশার সময়ে শিশুর দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। সে বিভিন্নভাবে পারিপার্শি্বক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে তাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা, অতিরিক্ত রাগ, পরিবারের সদস্যদের থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখা, সারাক্ষণ নিশ্চুপ থাকা ইত্যাদি প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে আপনার শিশুর প্রতিক্রিয়াগুলোকে সহজভাবে নিয়ে তার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং যথাসম্ভব বেশি বেশি আদর করুন। তার দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিন। যাতে সহজেই সে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে।

২. কঠিন সময়গুলোতে শিশুদের প্রচুর সময় দিন এবং ভালোবাসুন। নরমভাবে কথা বলুন এবং তাদের পুনরায় নিশ্চিত করুন যে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যদি সম্ভব হয় শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করুন।

৩. আপনার শিশুকে সবসময় আপনার কাছে রাখুন। কখনোই পরিবার থেকে আলাদা রাখবেন না। যদি আলাদা রাখতে হয় (হাসপাতালে থাকলে), তাহলে তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

৪. প্রতিদিন রুটিন মাফিক খেলাধুলা, পড়াশোনা বা বিনোদনের ব্যবস্থা করুন।

৫. বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। কিভাবে তারা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের করণীয় সম্পর্কে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করুন। দরকার হলে নিজে করে দেখান।

৬. শিশুদের মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে সব সময় তৎপর থাকুন। কেননা যেকোনো শিশুর মানসিক অবস্থার অবনতি জীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। তাই মহামারীর সময়ে নিজেরা সচেতন থাকুন। শিশুদের দিকেও বাড়তি মনোযোগ দিন।

কয়েকটা বিষয় খেয়াল করা জরুরী

এসি বা ফ্যান

শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক হয় এসি বা এয়ার কন্ডিশনার। তা না সম্ভব হলে ফ্যান সচল রাখুন শিশুর যত্ন নিতে। শুধু খেয়াল রাখবেন তাপমাত্রা এবং হিউমিডিটি যেন ঠিকমত নিয়ন্ত্রণে থাকে।

জানালা খোলা রাখুন

আপনার ঘরের জানালা খোলা রাখুন। এতে করে ঘরে সারাক্ষণ বাতাস চলাচল হবে। গুমোট আবহাওয়া তৈরি হবে না। তবে সন্ধ্যার আগে অবশ্যই জানালা লাগিয়ে দিন। এটি নির্ভর করে আপনি কোন এলাকায় বসবাস করছে এবং সেখানে মশার সংক্রমণ কেমন। সেই অনুযায়ী বন্ধ করে দিয়ে ঘন্টাখানেক পর খুলে দেবেন।

গোসল

গরমে হাঁপিয়ে উঠে আমরা যেমন বার বার গোসল করি তেমনি আপনার শিশুকেও দিনে অন্তত ২ বার গোসল করান। এছাড়া মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দিন। এতে শিশু বেশ আরাম পাবে। তবে কখনো গোসলের পর শিশুর গায়ের পানি পুরোপুরি শুকনো করে মুছে দেবেন না। হালকা ভেজাভাব তাকে অতিরিক্ত গরমের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

পানি

গরমের সাথে মানিয়ে নিতে শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকা খুবই জরুরি। শিশু যতই বিছানায় থাকুক, তারও গরম লাগে, ঘাম হয়। তাই তাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করান। শুধু পানির বদলে পানি জাতীয় খাবার দিতে পারেন। প্রচুর ফল খেতে দিন। এতে শিশুর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হবে। তবে শিশুকে জোর করে কিছুই খাওয়ানো উচিৎ নয়। বরং সময় নিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়ান।

হালকা পোশাক

শিশুকে গরমে কম্ফোর্টেবল রাখতে অবশ্যই হালকা রঙের পোশাক পরান। অনেক অভিভাবক শিশুদের কয়েকটি জামা পরিয়ে রাখেন। শিশুকে অনুষ্ঠানে জাকজমকভাবে প্রকাশের চেয়েও তার আরাম বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেদিকে নজর দিন।

সুস্থ থাকুন আপনি। একই সাথে নিশ্চিত করুন শিশুর সুস্থ থাকা। এই আবহাওয়ায় তাকে দিন বাড়তি যত্ন, দিন বাড়তি মনোযোগ। শিশুরা যেন মানসিক চাপমুক্ত ও সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে। সচেতনতাই আমাদের প্রধান হাতিয়ার।